Thursday 13 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

লোডশেডিংয়ে গাইবান্ধায় চার্জার ফ্যান-আইপিএসের চাহিদা তুঙ্গে, বেড়েছে দাম

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৩৬

চার্জার ফ্যানের দোকানে ভিড়।

গাইবান্ধা: তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় গাইবান্ধায় চার্জার ফ্যান, আইপিএস ও ব্যাটারির চাহিদা বেড়েছে। হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় এসব পণ্যের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

গাইবান্ধা শহরের স্টেশন রোড, নিউ মার্কেট, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকার ইলেকট্রিক পণ্যের দোকানে ঘুরে দেখা গেছে, চার্জার ফ্যান ও আইপিএস কিনতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। অনেক দোকানি চাহিদামতো পণ্য সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক মাসে মডেল, আকার ও মানভেদে চার্জার ফ্যানের দাম বেড়েছে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে মাঝারি মানের ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি চার্জার ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকায়। বড়ো ও উন্নত মানের ফ্যানের দাম আরও বেশি।

বিজ্ঞাপন

একইভাবে বেড়েছে আইপিএসের দামও। ব্যাটারির সক্ষমতা ও ব্র্যান্ডভেদে মাঝারি মানের আইপিএসের দাম এখন প্রায় ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বড় ক্ষমতার আইপিএসের দাম ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ সংকট ও বাড়তি চাহিদার কারণে গত এক মাসে মডেলভেদে আইপিএসের দাম বেড়েছে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা।

গাইবান্ধা শহরের নিউ মার্কেটে ফ্যান কিনতে আসা পূর্বপাড়ার বাসিন্দা সেজান মাহমুদ বলেন, ‘লোডশেডিং হলে বাসায় থাকা কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই বাধ্য হয়ে চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছি। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় দাম অনেক বেশি।’

সুমন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘আগে যে ফ্যান ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ৬ হাজার টাকার কাছাকাছি। দোকানে দোকানে ঘুরেও একই অবস্থা দেখছি।’

স্থানীয় ইলেকট্রিক পণ্য ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে চার্জার ফ্যানের বিক্রি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগে যেখানে দিনে কয়েকটি ফ্যান বিক্রি হতো, এখন তার কয়েক গুণ বিক্রি হচ্ছে। আইপিএস ও ব্যাটারির ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাহিদা তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গরম ও লোডশেডিং—দুই কারণে মানুষ এখন বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে চাইছেন। ফলে চার্জার ফ্যান ও আইপিএসের চাহিদা বেড়েছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় কিছু পণ্যের দামও বেড়েছে।’

এদিকে নতুন পণ্যের পাশাপাশি পুরোনো চার্জার ফ্যান ও আইপিএস মেরামতের জন্যও মেকানিকের দোকানে ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যাটারি পরিবর্তনের চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে চার্জার ফ্যানের ব্যাটারি সক্ষমতা ও মানভেদে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা পণ্যের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সংযোজিত চার্জার ফ্যান ও আইপিএসের চাহিদাও বেড়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। নিয়মিত বাজার তদারকি করা হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর গাইবান্ধার উপ-পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘আমরা বাজার মনিটরিং করে মূল্য বৃদ্ধির কোনো তথ্য পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর