Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম, বাড়ছে লোডশেডিংও

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৫২ | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২৬ ১৫:৫৩

চট্গ্রামের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের চিত্র। ছবি: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম: ভয়াবহ গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের জনজীবন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় রান্না ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে সড়কে নামছে না অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাস। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি গণপরিবহণেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমেছে। এর প্রভাবে নগরীতে বেড়েছে লোডশেডিং। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে চট্টগ্রামের পরিবহণ, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে তৈরি হয়েছে স্থবিরতা।

বিজ্ঞাপন

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকটের শুরুতে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে আগস্টের শুরু থেকে সরবরাহ আরও কমে যাওয়ায় আবাসিক ও শিল্প—সব খাতেই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবারকে রান্না করতে হচ্ছে বিকেলে বা গভীর রাতে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।

গত দুইদিন ধরে বাসায় রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা নন্দিতা বডুয়া। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘কখন গ্যাস থাকবে, কখন থাকবে না কোনো ঠিক নেই। চুলায় আগুন জ্বলছে না। হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। আমাদের এই কষ্ট কি দেখার কেউ নেই?’

সোমবার (৩ আগস্ট) নগরীর কদমতলী, অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, কর্ণফুলী, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও পতেঙ্গাসহ কয়েকটি এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পে গভীর রাত থেকেই গাড়ির দীর্ঘ সারি। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা।

কদমতলী মোড়ে সিএনজিচালক মোহাম্মদ রফিক সারাবাংলাকে বলেন, ‘সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে ১৫০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। ইনকাম করব কত? অর্ধেকই তো জমা দিতে হবে মালিকপক্ষকে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।’

চালকেরা জানান, রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক সময় মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকার গ্যাস মিলছে। এতে অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাস সড়কে নামানো সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনও স্বাভাবিক হবে না। এতে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। গ্যাসের অভাবে কারখানাগুলো উৎপাদন কমাচ্ছে, আবার বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণেও উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের শিল্পখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানাকে উৎপাদন কমাতে হচ্ছে, কোথাও কোথাও উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। এতে রফতানি আদেশ বাস্তবায়ন, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং উৎপাদন ব্যয় সবকিছুই নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেজিডিসিএলের বিপণন বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘মূল সংকটের কারণ ঢাকার সরবরাহ ঠিক রাখা। জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রাম অংশের সরবরাহ কমিয়ে তা ঢাকায় বাইপাস করা হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামে সরবরাহব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।’

সারাবাংলা/এসএন/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর