চুয়াডাঙ্গা: টানা প্রবল বর্ষণে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা, সড়ক ধস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতিতে জেলার চারটি উপজেলা ও পৌর এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে দামুড়হুদা উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বৃষ্টির পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নোংরা ড্রেনের পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। একই সঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবেও দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সড়কের দুই পাশে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সড়ক ধসে যোগাযোগে বিচ্ছিন্ন
দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা-গোবিন্দহুদা এলাকায় অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে দীর্ঘদিন বালি উত্তোলনের কারণে দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের পাশের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টির পানির তোড়ে সড়কের একাংশ ধসে যাওয়ায় হাজারো মানুষের চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়ে সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া জয়রামপুর কাঁঠালতলা বাজার থেকে কুমারীদহগামী সড়কের একটি অংশও ধসে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাঁঠালতলা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দ্রুত ভাঙনরোধ এবং সড়কটি পুনরায় চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পানিবন্দি মানুষ, স্থবির জনজীবন
টানা বর্ষণে জেলার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। কর্মজীবী মানুষের অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারেননি। শহরের বিভিন্ন সড়কে রিকশা, ইজিবাইক ও গণপরিবহনের চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সহায়তা
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে চুয়াডাঙ্গা ভিমরুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। এ সময় পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে একই বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া ২৭টি পরিবারের ১১৮ জন সদস্যের খোঁজখবর নেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র। এ সময় সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে পাঁচ প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী (প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি চালসহ প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার), নগদ ৪ হাজার টাকা, ১০ কেজি চিড়া এবং ২৭টি কম্বল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বসতবাড়ি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন কর্মকর্তারা।