গাইবান্ধা: টানা ভারী বৃষ্টির পর আবারও জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে গাইবান্ধা পৌর শহরে। অপর্যাপ্ত ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় গাইবান্ধায় ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি বছরে জেলায় এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
বৃষ্টির পর শহরের মধ্যপাড়া, সান্দারপট্টি, শাপলাপাড়া, স্টেশন রোড, হাসপাতাল রোড, ডিসি অফিস চত্বর, মুন্সিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে উঠে আসায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
স্টেশন রোডের ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা, ড্রেন দখল এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে একটু বেশি বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফা জানায়, সামান্য বৃষ্টিতেই স্কুলে যাওয়ার রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। নোংরা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয় এবং অনেক সময় স্কুলের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষেও পানি ঢুকে পড়ে।
পার্ক রোড এলাকার বাসিন্দা শ্রী অমল চন্দ্র বলেন, বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর সমস্যার সমাধানের আশ্বাস মিললেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু বলেন, শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে চলে যায়। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থাই এই দুর্ভোগের মূল কারণ। তিনি দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
অন্যদিকে গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হানিফ সরদার বলেন, শহরের কিছু সড়ক নিচু হওয়ায় সেখানে সহজেই পানি জমে। পাশাপাশি ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, যা জলাবদ্ধতার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আমরা শীঘ্রই শহরের ড্রেন গুলো নিয়মিত পরিস্কার কার্যক্রম শুরু করব।