কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদরাসায় পাহাড়ধসে অন্তত সাত ছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেকে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্প-৫-এর ব্লক এ-৩ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদরাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পড়ে। নিহতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. মোস্তাফা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় ৩০-৫০ জনের বেশি ছাত্রী ছিল। কয়েকটি সূত্র সেখানে ৮০-১০০ জন শিশু থাকার দাবিও করেছে। তবে আটকে পড়াদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পাহাড়ধস শুরু হলে কয়েকজন ছাত্রী দৌড়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। তবে বেশিরভাগই কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ জনের নিরাপদে বেরিয়ে আসার তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ক্যাম্প-৫-এর ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। তার ভাষ্য, ‘এখনো পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনো উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। মাটির নিচে আরও শিক্ষার্থী আটকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
এর আগে, গত রোববার দিবাগত গভীর রাতে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসে আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে পরিবারের ১০ সদস্য অবস্থান করছিলেন। আহত এক কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাত ২টার দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে মোহাম্মদ রশিদের ছেলে একরাম (৭) নিহত হয়।
এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হন।
কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার (৬ জুলাই) ভোররাতে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। একই পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
এ ছাড়াও, এদিন বিকেলে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আলমের ঝিরি এলাকায় পাহাড়ধসে ঘরের ভেতর মাটিচাপা পড়ে সাত বছর বয়সি শিশু মিনহাজ মারা যায়।