গুগল প্রেমীদের জন্য সুখবর! এবার পছন্দের রেস্তোরাঁ থেকে খাবার অর্ডার করার জন্য ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলোর পেছনে আলাদা সময় নষ্ট করতে হবে না। গুগলের জনপ্রিয় নেভিগেশন অ্যাপ Google Maps-এই যুক্ত হতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI চালিত ফুড অর্ডারিং ফিচার। এর ফলে ম্যাপে রেস্তোরাঁ খোঁজার পাশাপাশি সরাসরি সেখান থেকেই খাবার অর্ডার করা যাবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট Android Authority-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Google Maps-এর নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের কোডিংয়ে ‘Ask Maps Food Ordering Promo’ নামে একটি নতুন অপশনের উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। যদিও গুগল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফিচারের ঘোষণা দেয়নি, তবে ব্যাক-এন্ডে এর কাজ পুরোদমে চলছে।
আসুন জেনে নেই, নতুন এই ফিচারের বিস্তারিত…
যেভাবে কাজ করবে এই AI ফিচার
স্মার্ট সাজেশন: এই ফিচারটি চালু হলে Google Maps আপনার খাদ্যাভ্যাস ও পছন্দের রেস্তোরাঁ ট্র্যাক করবে। আপনি আগে যেসব জায়গা থেকে খাবার অর্ডার করেছেন, AI সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে চোখের পলকে আপনার পছন্দের মেন্যু সাজেস্ট করবে।
সহজ ও দ্রুত অর্ডার: আলাদা কোনো ফুড ডেলিভারি অ্যাপে না গিয়ে ম্যাপের ভেতরেই রেস্তোরাঁ সিলেক্ট করে এক ক্লিকে অর্ডার প্লেস করা যাবে।
পেমেন্ট ও ইউজার কন্ট্রোল
ম্যাপের AI আপনাকে খাবার বেছে নিতে সাহায্য করলেও পেমেন্ট বা টাকা দেওয়ার কাজ কিন্তু সে নিজে থেকে করবে না। খাবারের দাম পরিশোধ করার আগে ব্যবহারকারীর চূড়ান্ত অনুমতির প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, আপনার সম্মতি বা পাসওয়ার্ড ছাড়া কোনো অর্ডার সম্পূর্ণ হবে না।
এই ফিচারের সম্ভাব্য কিছু ঝুঁকি ও উদ্বেগ
প্রযুক্তিটি যেমন সুবিধাজনক, তেমনই এর কিছু নেতিবাচক দিক বা ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা চলছে:
গোপনীয়তা বা ডেটা প্রাইভেসি: আপনি কী খেতে ভালোবাসেন, কোন রেস্তোরাঁয় যান, মাসে কত টাকা খাবারের পেছনে খরচ করেন, এই সব ব্যক্তিগত তথ্য গুগলের সার্ভারে জমা থাকবে।
বিজ্ঞাপনের প্রভাব: আশঙ্কা করা হচ্ছে, AI হয়তো নিরপেক্ষ সাজেশন না দিয়ে যেসব রেস্তোরাঁ গুগলকে বেশি বিজ্ঞাপন দেবে বা স্পন্সর করবে, সেগুলোকে তালিকার ওপরে সাজেস্ট করতে পারে।
অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি: কোনোভাবে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে বা অন্য কারও হাতে চলে গেলে, আপনার অজান্তেই আপনার নামে খাবার অর্ডার বা আর্থিক ক্ষতি করার চেষ্টা হতে পারে।
উল্লেখ্য, সব মিলিয়ে, Google Maps-এর এই নতুন AI ফুড অর্ডারিং ফিচারটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে সন্দেহ নেই। তবে এর পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা রক্ষা করা গুগলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।