সিরাজগঞ্জ: ১০০ গ্রাম হেরোইন রাখার দায়ে আব্দুল লতিফ নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন এ রায় দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক সরকার। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল লতিফ পাবনা জেলার আমিনপুর থানার ট্যাংবাড়ি গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার পুলিশ হাটিকুমরুল গোলচত্বরে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিল। ওই দিন রাত প্রায় ২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা রূপসী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রী আব্দুল লতিফের বহন করা একটি ব্যাগ সন্দেহজনক মনে হলে সেটি তল্লাশি করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পরে ব্যাগের ভেতর থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং জব্দ করা হয় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য।
এ ঘটনায় হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ আলী বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলে। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, জব্দ তালিকা, আলামত এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। অপরদিকে আসামিপক্ষও নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র এবং উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে অভিমত দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আব্দুল লতিফকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন।
রায়ের বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক সরকার জানান, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দিয়েছেন। মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হয়ে আদালতের বিচারের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এটি মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।