Sunday 05 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফরিদপুরে সাবেক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রেলওয়ের লিজের জমি দখলের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
৫ জুলাই ২০২৬ ২২:১৪

লিখিত বক্তব্য দিচ্ছেন বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির সৈয়দ নিয়ামুল হাসান।

ফরিদপুর: জেলার বোয়ালমারীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন লিজ দেওয়া জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক (বহিস্কৃত) সহ-সভাপতি শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনুর বিরুদ্ধে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসা ও হেফজখানায় সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির সৈয়দ নিয়ামুল হাসান। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক (বহিষ্কৃত) সহ-সভাপতি শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল ও রেলওয়ে থেকে নেওয়া তাঁদের লিজকৃত জমি দখলে রাখার অভিযোগ করেন। এছাড়া ওই জমিতে গেলে লোকজন দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি-ধমকিসহ আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, একটি পরিচলন পর্ষদের মাধ্যমে পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসা ও হেফজখানা নামে একটি মাদরাসা পরিচালনা হয়ে আসছে। বর্তমানে তিনি ওই মাদরাসার অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থে ১৯৯৩ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ আবুল কাশেম মাহমুদের নামে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে, বোয়ালমারী স্টেশন এলাকায় পৃথক জায়গায় কৃষিজমি হিসেবে এক একর ও ৬৬ শতক জমি লিজ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিচলন পর্ষদের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন তারা এবং সেখানে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে মাদরাসার ব্যয়ে খরচ করেন।

এভাবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১ একর জমি খাজনা পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে রেলওয়ে থেকে খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। যা কিছুদিনের মধ্যে শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু দখলে নিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে ওই জমিতে দোকানঘর তুলে কৌশলে অন্যদের হস্তান্তর করেন।

এছাড়া বাকি ৬৬ শতক জমি তাদের লিজে থাকলেও বর্তমানে ওই জমিতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ রয়েছে বলে কাগজপত্র উত্থাপন করেন।

তিনি বলেন, আমাদের মাদরাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লে আমরা ওই জমিতে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু করি। এরপর সাইনবোর্ড টানিয়ে দিলে ওই নেতা তা রাতের আঁধারে সরিয়ে ফেলে এবং আমরা কেউ গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই আমরা জমি বুঝে পেতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওই জমির লিজ গ্রহিতা আবুল কাশেম মাহমুদ, সভাপতি মো. জাকির হোসেন, পরিচালক মো. আতিয়ার রহমান মিয়া ও মানছুর আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ আবু নাছের মোল্যা প্রমুখ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু দাবি করেন, ওই জায়গায় অভিযোগকারীদের কোনো লিজের জমি নেই। তিনি বলেন, ‘আমার পূর্ব-পুরুষের জমি আমরাই রেলওয়ের মাধ্যমে দখলে আছি। এটা নিয়ে ওরা একবার মামলা করে এবং আদালত তা খারিজ করে দেয়। এরপর ২০০৫ সালে ওদের নামে লিজ বাতিল করে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বাকি ৬৬ শতক জায়গা যদি লিজ নিয়ে থাকে রেলওয়ে সেটা ওদের বুঝিয়ে দিক।’

হুমকি-ধমকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা শুধু মিথ্যা কথা বলে, ভন্ডের দল। উল্টা আমাকে বলে, এই আসনে জামায়াত ক্ষমতায় আসছে, দেখায় দেব। ওরা এমপির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে।’

এ বিষয়ে পাকশী রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ফৌজদারী অপরাধের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দিতে পারেন।’