ফরিদপুর: ফরিদপুর মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেছেন এক মা। শিশুগুলো অস্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়ায় চিকিৎসা সংকট দেখা দিয়েছে। এতে আনন্দের পরিবর্তে হতাশা দেখা দিয়েছে পরিবারে। কারণ, জন্মের পর দুই শিশু মারা গেছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার ছাড়াই শিশুগুলো জন্মগ্রহণ করে। শিশুগুলোর মধ্যে তিনজন ছেলে ও দু’জন মেয়ে সন্তান । তাদের বাবার নাম মাহামুদুল হাসান ডলার। সে ফরিদপুর জেলা সদরের ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল বেপারীর ছেলে এবং তার সিঙ্গাপুর যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
শিশুগুলোর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেড় বছর আগে নগরকান্দা উপজেলার বড় কাজুলী গ্রামের চাঁদনী বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় মাহামুদুল হাসান ডলারের। তাদের বিয়ের পরই চাঁদনী বেগম সন্তানসম্ভাবা হলে এই দম্পতির মুখে হাসি ফুটেছিল। এক পর্যায়ে জানতে পারেন চাঁদনীর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। পরে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হলেও নির্ধারিত সময়ের ১২ সপ্তাহ আগে বাঁচ্চাগুলো প্রসব করেন চাঁদনী বেগম। এতে শিশুগুলোর নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে তিনটি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের প্রত্যেককে শুধুমাত্র অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। ইনকিউবেটর সংকট থাকায় স্বজনেরা কোলে রেখে অক্সিজেন দিচ্ছেন। হাসপাতালটির লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স মিনতি সরকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদিন বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম বাচ্চা প্রসব করেন। এরপর ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি চারটি বাচ্চা প্রসব করেন। নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করায় বাচ্চাগুলোর ওজন ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে রয়েছে। আবার কারও চোখ ফোটেনি, সবকিছু মিলে বাচ্চাগুলো অস্বাভাবিক বলা যায়।
তবে বাচ্চাগুলের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ণ) চিকিৎসক পৃথিরাজ পাল চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এখানে পাঁচটা বাচ্চার মধ্যে দু’টো মারা গেছে। বাকিগুলোর অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের এনআইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের এখানে এনআইসিইউ নেই। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার কথা জানিয়েছি। কিন্তু, পরিবার সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছে। তবে আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।’