Thursday 02 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এনসিটি ইজারা প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্যের প্রতিবাদ স্কপের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ জুলাই ২০২৬ ২২:৫২

চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রাম।

সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, প্রকৃত বাস্তবতা আড়াল করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এনসিটি ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা বা কনসেশনে দেওয়ার সব ধরনের উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে স্কপ নেতারা বলেন, বন্দর চেয়ারম্যান প্রকৃত বাস্তবতা আড়াল করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন। তবে দেশের শ্রমিক, বন্দর-সংশ্লিষ্ট মানুষ এবং সচেতন জনগণ এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য কখনোই মেনে নেবে না।

বিজ্ঞাপন

তাদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটির মতো লাভজনক টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগই বর্তমানে দেশের মানুষের উদ্বেগের প্রধান কারণ। সেই উদ্বেগ দূর করার পরিবর্তে বন্দর চেয়ারম্যান উদ্যোগটিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বন্দর চেয়ারম্যান দাবি করেছেন দেশের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বাস্তবতা হলো, সরকার যদি সত্যিই জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিত, তাহলে এনসিটি ও সিসিটি দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার আলোচনা চলত না।

তাদের মতে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতেই রাখা এবং দেশীয় জনবল ও সক্ষমতার মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালনা চলমান রাখা।

স্কপ নেতারা বলেন, এনসিটি এরই মধ্যে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি বন্দরের অন্যতম লাভজনক টার্মিনাল। দক্ষ দেশীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মাধ্যমে টার্মিনালটি সফলভাবে পরিচালিত হওয়ার পরও বিদেশি অপারেটরের প্রয়োজনীয়তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো দিতে পারেনি। বরং এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের অধিকার এবং বন্দরের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় সম্পদের বিষয়ে জনগণের উদ্বেগকে অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত আলোচনার সব তথ্য, প্রস্তাবিত চুক্তির শর্তাবলি এবং সম্ভাব্য আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা। গোপনীয়তা বজায় রেখে জাতীয় সম্পদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

স্কপ নেতারা বলেন, তারা উন্নয়নের বিরোধী নন। তবে জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনো উন্নয়ন বা বিনিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কনসেশন বা ইজারার মাধ্যমে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা বা কনসেশন দেওয়ার সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্রমিক, কর্মচারী ও দেশপ্রেমিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

যৌথ বিবৃতিতে সই করেন শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতা ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ. এম. নাজিম উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক এস. কে. খোদা তোতন, স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হুনি, বিএমএসএফ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবসার, বিএলএফ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির, বিজেএসএফের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিনসহ অন্যান্য নেতারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর