কুমিল্লা: কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধের আলোচিত ঘটনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল ও তাজা গুলিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এ সাফল্য আসে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুন রাত থেকে কুমিল্লার কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জেরে ২৫ জুন দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও পথচারী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়।
ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়। অভিযানের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত জামসেদ হোসেন শ্রাবণকে (২২) একটি বিদেশি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন আসিফ (২৬), আশিক (৩৫) ও ইমন (১৯) নামের তিন ব্যক্তি। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি কুমিল্লার কোতোয়ালি থানা এলাকায়।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের বরাতে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘সমাজের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী এবং মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধীকে কুমিল্লার মাটিতে ছাড় দেওয়া হবে না। স্কুলছাত্র ইথানের ওপর যারা গুলি চালিয়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থান এবং চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।