মানিকগঞ্জ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ‘দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শুকনো মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করা যাবে, অন্যদিকে বর্ষাকালে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে ফসলহানি কমানো সম্ভব হবে।’
বুধবার (২৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার আমডালা খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময়ই খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় সাত হাজার খাল পুনর্খনন ও খনন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খাল শুধু খাল নয়। খালের মধ্যে পানি সংরক্ষণ করে রাখা যাবে শুকনো মৌসুমে। আবার বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকায় কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা ও ফসলহানি কমবে। আমরা খালের পাড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণও করছি। মাছ-ভাতের বাঙালি ঐতিহ্য ধরে রাখতেও খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে যদি স্বাবলম্বী করা যায়, তাহলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও স্বাবলম্বী হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সে সময় দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল। খাল খনন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল।’
দেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানি ধরে রাখতে হবে। দেশের অনেক নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। তিস্তা এখন অনেক জায়গায় মরুকরণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এ ছাড়াও মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অযত্নে অনেক নদী-খাল নাব্যতা হারিয়েছে। এসব নদী ও খাল পুনর্খননের জন্য সরকারের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।’
শিবালয়ের আমডালা খালের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এরইমধ্যে খালটির উল্লেখযোগ্য অংশ খনন করা হয়েছে। তবে আগাম বর্ষণের কারণে কিছু কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আগামী শুকনো মৌসুমে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।’
দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল। একদিনে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে খাল খননে কোথাও কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস. এ. জিন্নাহ কবীর, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা এবং মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।