Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত-বাঁধ ভাঙনের শঙ্কা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ জুন ২০২৬ ২১:৪০ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০০:২২

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর: উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং ব্যারাজের ভাটিতে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙনসহ গুরুতর ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমা (৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) থেকে এক সেন্টিমিটার বেশি। এর আগে সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে এবং দুপুর ১২টায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে উজানের ঢলে ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বাড়া-কমা করলেও এ বছর এই প্রথম পানিপ্রবাহ বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে ব্যারাজের ভাটিতে তিস্তা তীরবর্তী রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে তিস্তা সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং কোলকন্দ ইউনিয়নে ডানতীর বাঁধ রক্ষায় নির্মিত গ্রোয়েনে আঘাত হানছে তীব্র স্রোত। ইতিমধ্যে প্রায় ২০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

জানা গেছে, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশাচাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৩ হাজার পরিবারের বাড়িঘরে পানি উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

নিম্নাঞ্চলে পানি উঠতে শুরু করায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘হু হু করে পানি আসতে শুরু করেছে। এই ধারা চলতে থাকলে নিম্নাঞ্চলের পরিবারগুলো দ্রুত পানিবন্দি হয়ে পড়বে। তাই এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি’।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী এলাকায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডান তীরের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে বাঁশের পাইলিং করে বালির বস্তা নিক্ষেপ করছে পাউবো। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জিও ব্যাগ ও ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর