ঢাকা: বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথঅনুষ্ঠানের জন্য বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে চলছে প্রস্তুতি। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ পর্যায়ে।
এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ প্রায় এক হাজার বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত থাকবেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দরবার হলে নির্ধারিত আসন গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ৬টা ৫০ মিনিটে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দরবার হলে প্রবেশ করবেন।
রাষ্ট্রীয় এই ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হতে দরবার হলে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিসভার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ। একই সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিদেশি কূটনীতিকগণও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি পদে শপথগ্রহণের ঐতিহাসিক এই আয়োজনে এক হাজার ২০০-এর বেশি অতিথিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি দরবার হলে আগমন করবেন। সেখানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ বাক্য পাঠ পরিচালনা করবেন।
এর আগে গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার এই পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আসনটি শূন্য ঘোষিত হয়। দেশের সংবিধানের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বেলা ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে শাসকদল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
জাতীয় সংসদের সাধারণ সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসন মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা ছিল মোট ৩৪৯ জন। ভোটাভুটির দিন মোট ভোটারের মধ্যে ৯ জন অনুপস্থিত ছিলেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা প্রক্রিয়ায় দেখা যায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট। ভোট গণনা কার্যক্রম শেষে অপরাহ্ণে সংসদ কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ফলাফল ঘোষণার পর সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সংসদীয় ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশে সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকার কারণে সর্বশেষ সরাসরি ভোটাভুটি হয়েছিল। এরপরের সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তবে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার নির্বাচনে দুজন হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় নিয়ম মাফিক ভোটাভুটির এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।