ফরিদপুর: জেলার মধুখালী থেকে আটক নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কর্মী মো. ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের (২৭) পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং সার্বিক পরিস্থিতি তদন্তের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম এবং ডিআই-১ মো. মোশারফ হোসেন।
এর আগে শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গাড়াখোলা এলাকায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে মাদকসহ প্রান্তকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, রাস্তা থেকেই প্রান্তকে আটকের সময় মারধর করে। এর পর তাদের বাড়ির বিভিন্ন রুমে তল্লাশি চালিয়ে প্রান্তকে আটক করে ফরিদপুর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসকদের প্রাথমিক মতামত অনুযায়ী তিনি ব্রেনস্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। তারপরও ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি সবদিক পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’
উল্লেখ্য, মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত মধুখালী উপজেলার গোন্দারিয়া গ্রামের মৃত মির্জা ইসকেন্দার হায়দারের ছেলে। তিনি ফরিদপুর আইন কলেজের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ফরিদপুর চিনিকলের ক্যাজুয়াল স্কেলম্যান হিসেবে কাজ করতেন।