হিলি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ৮ বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. মোকারম হোসেন (৫৫)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩।
রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় র্যাব-১৩, সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্প-এর পক্ষ থেকে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার হওয়া মোকারম হোসেন চিরিরবন্দরের চকমুসা গ্রামের মৃত হাছির উদ্দিনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ৮ বছরের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু। তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের কাজ করায় শিশুটি গ্রামের বাড়িতে দাদির কাছে থাকত। প্রতিবেশী সম্পর্কের দাদা আসামি মো. মোকারম হোসেন প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানি করতেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা হলে ক্ষিপ্ত হন মোকারম।
গত ১০ মে সকাল আনুমানিক ৮টায় শিশুটি ঘাস কাটার জন্য বাড়ির বাইরে বের হয়। এসময় আসামি মোকারম তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পেছনে একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে দাদি ও চাচাকে বিষয়টি জানালে তার চাচা মো. রাব্বিল আলামিন বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায় আসামি মোকারম। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা দল তার অবস্থান শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে।
র্যাব জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (৭ জুন) রাত আনুমানিক ১২টায় র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল পার্বতীপুর থানাধীন কুতুবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অভিযুক্ত মো. মোকারম হোসেন-কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, শিশু ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের এই চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।