রাজবাড়ী: ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯’ আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ফারুক আহম্মেদ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯’ অবহিতকরণ ও বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০০৯ সালের আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন করে আইনের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে এবং যেসব বিষয় এতে নেই, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা সকলেই কোন না কোনভাবে ভোক্তা। তাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সবাইকে জানতে হবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ আইন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ভোক্তার অধিকার ও স্বার্থ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ব্যবসায়ীদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে তাদের সচেতন করার কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।’
তিনি অনলাইনে কেনাকাটার বিষয়ে বলেন, ‘অনলাইন ব্যাবসা অনেককেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দালাল, ই-কমার্স ও ই-অরেঞ্জের মাধ্যমে অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন। এগুলো আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি, আবার অনেকে নিজেরাও ভুক্তভোগী। অনলাইনে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তা অনেক সময় প্রতারিত হচ্ছেন। আমরা এই বিষয়গুলো আইনের মধ্যে এনেছি।’ অনলাইনে পণ্য বা সেবা কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে অধিদপ্তর সক্রিয় রয়েছে। আগামী ৭ অথবা ৮ তারিখে আমরা আইনগুলো খসড়া আকারে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করব। এরপর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে একটি চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে আশা করছি।’
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক নয়ন কুমার সাহা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ নিয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান।
আলোচনা সভায় ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।