Wednesday 03 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সোনার কলসের লোভেই বলি হয়েছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের নাসিমা, গ্রেফতার তান্ত্রিক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩ জুন ২০২৬ ১০:০৩ | আপডেট: ৩ জুন ২০২৬ ১৪:২৩

নাসিমা হত্যাকাণ্ড বিষয়ে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় গৃহবধূ নাসিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি অভিযুক্ত কথিত তান্ত্রিক শামসুল হককে গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন।

তিনি জানান, গত ১ জুন সকালে হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ফজিলপুর এলাকায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি রানীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও গ্রামের আবদুল্লাহর স্ত্রী নাসিমা আক্তার (৩৬)। তিনি তিন সন্তানের মা ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নাসিমা আক্তার প্রায় এক বছর ধরে হরিপুর উপজেলার কথিত কবিরাজ ও তান্ত্রিক শামসুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার দিনই শামসুল হককে আটক করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শামসুল হক দীর্ঘদিন ধরে ‘সোনার কলস’ পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। একই কৌশলে তিনি নাসিমা আক্তারের কাছ থেকেও প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। সোনার কলস পাওয়ার আশায় নাসিমা নিয়মিত তার কাছে যাতায়াত করতেন।

তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার রাতে শামসুল হক নাসিমাকে হরিপুর উপজেলার ফজিলপুর গ্রামের একটি নির্জন সড়কের পাশে নিয়ে যান। সেখানে কথিত গুপ্তধন না পাওয়ায় নাসিমা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রতিশ্রুত সোনার কলস দেওয়ার জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে শামসুল হক জাদু টানার নামে একটি ভুয়া আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ সময় তিনি একটি দড়ির দুই প্রান্তে বাঁশের কঞ্চি বেঁধে নাসিমার চারপাশে দাগ কাটেন। পরে সেই দড়ি দিয়েই তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অভিযুক্ত ঘটনাস্থলেই একটি সিগারেট ধরিয়ে আগুনের কাঠি মরদেহের দিকে ছুড়ে দেন। এতে নিহতের বোরখাসহ শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। এরপর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে শামসুল হক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। অভিযুক্ত শামসুল হক হরিপুর উপজেলার টেংরিয়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে।’

তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন সকালে হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ফজিলপুর এলাকায় নাসিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে জেলা পুলিশের নিবিড় তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয় এবং মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।