Monday 25 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস
২৮ কোটি টাকার সংস্কার কাজ ৩ মাসেই বিধ্বস্ত!

রাব্বী হাসান সবুজ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৫ মে ২০২৬ ০৮:০৫ | আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ০৮:৫৯

দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

রংপুর: টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের অন্তত আটটি স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে ধস নামার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (১৬ মে) থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে পিচ ও খোয়া উঠে গেছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। উপজেলার মহিপুর এলাকায় সেতুর উত্তর প্রান্তের এই সড়কের একাধিক স্থানে ধস নেমেছে, কোথাও কোথাও গভীর গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধস শুরুর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করছেন। এই সড়কটি রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা প্রতিদিন প্রায় অর্ধলাখ মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসাবাণিজ্যের কাজে ব্যবহার করে থাকেন। এই গর্ত ও ধসগুলো দ্রুত সংস্কার না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

২৮ কোটি টাকার সংস্কার কাজ ব্যর্থ

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে রংপুরের বুড়িরহাট থেকে গঙ্গাচড়ার সিরাজুল মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সংযোগ সড়কটি ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার ও বর্ধিত করা হয়। মেসার্স খায়রুল কবির রানা, কে কে আর লিমিটেড ও বরেন্দ্র লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে এই কাজটি বাস্তবায়ন করে। এ ছাড়া, লালমনিরহাট অংশের সিরাজুল মার্কেট থেকে কাকিনা পর্যন্ত সড়ক সংস্কারে আরও ৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়, যা শাহাদাত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান করেছে।

তবে এই সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় বৃষ্টিতে এসব অংশ ধসে পড়ায় কাজের মান নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। সড়কটির বর্ধিত অংশে ইট ও মাটি দিয়ে ভরাট করা হলেও তা টেকসই হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে শুরু থেকেই অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণেই বারবার এ ধরনের ধস দেখা দিচ্ছে। ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দ্বিতীয় তিস্তা সেতুটি ২০১৯ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই সংযোগ সড়কে বারবার ভাঙন ও খানাখন্দ তৈরি হচ্ছে।

ঝুঁকিতে সবাই

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান ও আবদুল মান্নান সারাবাংলাকে জানান, বর্ষা এলেই সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে। সড়কের পাশের মাটি ও ইট বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গিয়ে বড় গর্ত তৈরি হয়। এই অবস্থায় যদি বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করে, তাহলে যেকোনো সময় পুরো সড়কটিই ভেঙে পড়তে পারে।

সেতু এলাকার বাসিন্দা নিয়াজ আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘সংস্কারের নামে শুধু টাকা খরচ হচ্ছে, টেকসই কোনো কাজ হচ্ছে না। বারবার ধস নামছে, আর মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যবাহী ১৪ ও ১৬ চাকার ভারী ট্রাক চলাচল করে, যার ওজন কমপক্ষে ৩৫ টন। রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মঞ্জুর আহমেদের মতে, এই সড়কটির বর্ধিত অংশ এত ভার বহনে সক্ষম নয়। এই অবস্থায় দ্রুত সংস্কার ও স্থায়ী সমাধান না হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বাণিজ্যিক ও জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান সারাবাংলাকে জানান, ধসের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে স্থানীয়রা এই প্রতিশ্রুতিতে খুব একটা আশ্বস্ত নন। কারণ, আগেও একই কথা শুনে শেষ পর্যন্ত আরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর