Sunday 24 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুরে কৃষক হত্যার রহস্য উদঘাটন, ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেফতার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৪ মে ২০২৬ ২১:৫১

গ্রেফতার ডাকাত দলের ৭ সদস্য।

রংপুর: জেলার পীরগঞ্জে বিএডিসির সেচ ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে কৃষক মফিজার রহমান (৫২) কে হত্যার ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

ঘটনার রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, গত ৭ মে সকালে পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের একটি সেচঘর থেকে কৃষক মফিজার রহমানের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে বিএডিসির একটি সেচ ট্রান্সমিটার (ট্রান্সফর্মার) চুরি হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হলে রহস্য উদঘাটনে নামে জেলা পুলিশের একটি দল ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৩ মে) রংপুর জেলা পুলিশের আভিযানিক দল জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন– গাইবান্ধা পলাশবাড়ি চকবালা গ্রামের জামিরুল ইসলাম (৩২), বাঁশকাটা গ্রামের নুরুল আমিন (৬৮), বেড়াডাংগা গ্রামের আমিরুল ইসলাম সরদার (৫৫), গোবিন্দগঞ্জ পুরন্দুর গ্রামের সবদুল আকন্দ ওরফে শামিম (৩৪), সাদুল্ল্যাপুর কাবিলপুর সোনাতলা গ্রামের আনিছুর রহমান (৪০), জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আমলাপুকুর গ্রামের আব্দুল জলিল (৩৮) ও বগুড়ার মোকামতলা এলাকার আব্দুল ওয়াহাব ওরফে শফিকুল।

এসপি মোজাম্মেল হক আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা কৃষক মফিজার রহমানকে হত্যা ও ট্রান্সফর্মার চুরির কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, সিএনজি, ট্রান্সফরমার চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং তিনটি ট্রান্সফর্মারের ভিতর থাকা তামার কয়েল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘কৃষক মফিজার রহমান হত্যাটি ছিল রহস্যজনক, চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস। জেলা পুলিশের আভিযানিক দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।’

এরআগে, গত ৭ মে (বৃহস্পতিব) সকালে উমরপুর গ্রামের কৃষক শহীদুল ইসলাম তার গবাদিপশু নিয়ে মাঠে এলে সেচঘরের দরজা খোলা ও ট্রান্সফর্মারটি অনুপস্থিত দেখতে পান। তিনি ঘরের ভেতর প্রবেশ করলে কৃষক মফিজার রহমানের পা বাঁধা অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান এবং স্থানীয়দের ডাক দেন । স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মফিজার রহমান ওই সেচঘরে রাতে বিএডিসির সেচ ট্রান্সফর্মার পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রান্সফর্মার চুরি করতে এসে বাধা দেওয়ায় ডাকাতরা তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায় ।

পুলিশ সুপার জানান, জামিরুলকে পীরগঞ্জের খেজমতপুর পশ্চিমপাড়ায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে, জলিলকে জয়পুরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে, শামিমকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল গ্রামের ভাড়া বাসা থেকে, শফিকুলকে বগুড়ার মোকামতলা থেকে এবং নুরুল আমিন, আমিরুল ও আনিছুরকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সকল ধরনের অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর