ভোলা: জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় প্রায় ৩৭ কেজি ওজনের ও ৭ ফুট ৬ ইঞ্জি দৈর্ঘের বিরল ‘মনিটর লিজার্ড’ প্রজাতির আরেকটি গুইসাপ উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার সংলগ্ন একটি বাগান থেকে গুইসাপটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় এক বাসিন্দা তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাগানের মধ্যে হাঁটার রাস্তা দিয়ে বাজারে যাচ্ছিল। এ সময় পাশের ঝোপঝাড়ের মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু একটা নড়াচড়া দেখে তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে দেখেন একটি অদ্ভুত প্রাণী ছাগলের বাচ্চা খাচ্ছে। পরবর্তীতে তিনি আশপাশের লোকজন জড়ো করে সেটিকে ধাওয়া দিয়ে আটকের একপর্যায়ে নিশ্চিত হন যে এটি একটি বিরল প্রজাতির গুইসাপ। পরে স্থানীয়রা বনবিভাগকে খবর দিলে বনবিভাগের লোকজন গিয়ে সেটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। তাদের দাবি, এর আগে এতো বড় গুইসাপ দেখেননি কেউই।
সন্ধায় ভোলা উপকূলীয় বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এটি মনিটর লিজার্ড নামের বিরল প্রজাতির গুইসাপ, সচরাচর যার দেখা মেলে না। খবর পেয়ে দৌলতখান রেঞ্জের লোকজন গিয়ে এটিকে উদ্ধার করে এবং তা রেঞ্জ হেফাজতে রয়েছে। গুইসাপটি মনিটরিংয়ে রয়েছে, পরবর্তীতে বনে অবমুক্ত করার উপযোগী হলে সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো প্রকৃতির সম্পদ, রক্ষার দায়িত্ব সকলের। মূলত খাবার খেতে এসেই মানুষের হাতে এগুলো আটক হচ্ছে। গুইসাপের খাবারের উৎস বজায় রাখতে মানুষকে সচেতন হতে হবে।’
প্রসঙ্গত, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সদর উপজেলার চরনোয়াবাদ থেকেও ছাগলের বাচ্চা খাওয়া অবস্থায় প্রায় ৪০ কেজি ওজনের ও ৯ ফুট ২ ইঞ্চি দৈর্ঘের বিরল মনিটর লিজার্ড প্রজাতির আরেকটি গুইসাপ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় লোকজন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বনবিভাগ গিয়ে গুইসাপটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করে।’