ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় সৎ পক্ষ নয়’ এবং জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে তেহরান কোনো ধরনের আপস করবে না।’’
শনিবার (২৩ মে) তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের নেতৃত্বে আঞ্চলিক মধ্যস্থতার একটি উদ্যোগ বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরকালে আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরাঘচির সঙ্গে মুনিরের পৃথক দুটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তিনি তেহরান ত্যাগ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা প্রস্তাব, যেটিকে তেহরান ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করছে। পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদান নিয়েও আলোচনা হয়।
বাঘের ঘালিবাফ বলেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্র ও কূটনীতি-উভয় ক্ষেত্রেই তার বৈধ অধিকার অনুসরণ করবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যে পক্ষের মধ্যে সততা নেই, তাকে বিশ্বাস করা যায় না।’ এর আগে একাধিকবারই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছে তেহরান।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি বোকামির মতো আবার যুদ্ধ শুরু করে, তবে এর পরিণতি আগের চেয়েও আরও কঠোর ও তিক্ত হবে।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার (২২ মে) জানিয়েছেন, সম্ভাব্য একটি চুক্তির পথে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যদিও এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
রয়টার্সের বরাতে ভারত সফরকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং এখনও আলোচনা চলছে। আজ পরে, আগামীকাল বা কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো আমাদের কিছু বলার মতো বিষয় থাকবে।’
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য এখনও গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।