টাঙ্গাইল: আসন্ন ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে যমুনা সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কের চার লেনের উন্নয়নকাজ এখনও শেষ না হওয়ায় ঈদযাত্রায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে এ মহাসড়কের যাত্রীদের। অন্যদিকে, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজের ধীরগতির অভিযোগ যানচালক ও যাত্রীদের। তবে কয়েক দফায় সময় বাড়িয়েও প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩টি জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় প্রতি বছর ঈদের সময় এই মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এবারও যমুনাসেতুর সীমিত সক্ষমতা ও চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় মহাসড়কে স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়ক উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। ২০২২ সালের মার্চ মাসে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে পুনরায় তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এ প্রকল্পে মোট আটটি ব্রিজ, ১০টি কালভার্ট, তিনটি আন্ডারপাস ও একটি ফ্লাইওভার রয়েছে। ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আন্ডারপাসের পাইলিং ও ফ্লাইওভারে পাইলিং-এর কাজ শেষের দিকে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। বিশেষ করে এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাসের কাজও চলমান রয়েছে। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে দ্রুত গতিতে কাজ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে যাত্রী আসলাম শেখ বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরেই এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কাজ চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এক কথায় ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজের গতি ধীর।’
আবদুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এরইমধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে আসন্ন ঈদযাত্রায় মহাসড়কের দুই পাশেই চার লেন যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বিগত তিন মাসে কাজের গতি বেড়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হতে পারে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, যানজট নিরসনে মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে জেলা পুলিশের ৮০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। মহাসড়কে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে। যমুনা সেতু ব্রিজের ওপরে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সাতটি রেকার থাকবে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে। প্রিক্রেট ডিউটি ও মোটরসাইকেলের টিম থাকবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।