Friday 22 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দরকার জনসচেতনতা ও দক্ষ চালক: মন্ত্রী রবিউল আলম

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ মে ২০২৬ ১৯:১৫

কথা বলছেন মন্ত্রী রবিউল আলম।

কুমিল্লা: সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে জনসচেতনতা ও দক্ষ চালক নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘চালকের অদক্ষতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং পথচারীদের অসচেতন আচরণ দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা গেলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।’

শুক্রবার (২২ মে) সকালে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১৯টি পরিবারের হাতে প্রায় ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮৬ জন নিহত ব্যক্তির পরিবার এবং ৩৩ জন আহত ব্যক্তি বা তাদের স্বজনেরা সহায়তা পান।

মন্ত্রী বলেন, ‘একজন উপার্জনক্ষম মানুষ বা প্রিয় স্বজন হারানোর ক্ষতি কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা যায় না। আজ আমরা সহায়তার চেক দিচ্ছি, কিন্তু এটি আসলে রাষ্ট্রের দায় স্বীকারেরই একটি অংশ।’

তিনি আরও জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এই বাস্তবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাস মালিকদের উদ্দেশে তিনি দক্ষ ও অভিজ্ঞ চালকদের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়ার আহ্বানও জানান। একইসঙ্গে ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সামনে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘরমুখো হবে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় আড়াই কোটি যাত্রীর চলাচল এবং কোরবানির পশু পরিবহণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’ তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়, জনগণের সহযোগিতা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস, ওভারপাস এবং ইউ-লুপ নির্মাণ জরুরি। পাশাপাশি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নিরাপদ করতে সমন্বিত মাল্টিমোডাল পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার কারণে দুর্ঘটনার হার ধীরে ধীরে কমছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা হতাশাজনক। এ বিষয়ে কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতাসহ বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মু. রেজা হাসান। বক্তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার, চালক, যাত্রী ও পথচারী সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সারাবাংলা/এআর