রাজবাড়ী: সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রতিবছর সাড়ে ৪ হাজার থেকে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছেন।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবিসহ বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ৬২ জনের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যে বাসডুবির ঘটনা ঘটেছিল, তার তদন্ত প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনা চালকের অদক্ষতা ও ত্রুটিযুক্ত বাসের কারণে হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। ফেরিঘাটে গাড়িটি দাঁড়িয়েছিল, চলার কোনো কারণ ছিল না। ফেরিটি প্রস্তুত ছিল না গাড়ি তোলার জন্য। ঠিক ওই মুহূর্তে কোনো কারণ ছাড়াই গাড়িটি চলতে শুরু করে। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই সময় গাড়ির ব্রেক কাজ করেনি। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। ত্রুটিযুক্ত যান, চালকের অদক্ষতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের যত দুর্ঘটনা ঘটছে তার বেশিরভাগের কারণ হচ্ছে চালকের স্বেচ্ছাচারিতা ও অদক্ষতা। সবকিছু মিলিয়ে আমরা এখনো নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পারিনি। কিন্তু নিশ্চিত আমাদের করতে হবে এবং সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ২৮শো কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, চোখ, ডায়াবেটিস, প্রেশার ও মাদকাসক্ত কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এসব কিছুর মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় আনতে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এবার চ্যালেঞ্জ থাকলেও ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তির হবে। এবার ভ্রাম্যমাণ আদালতও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান রশিদ, সংস্কৃতি মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে বক্তব্য দেন রেজাউল করিম।
এর আগে সড়কপথে রাজবাড়ী সার্কিট হাউজে পৌঁছালে সেখানে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। চেক বিতরণ শেষে শহরের রেলওয়ে মাঠ ও আজাদী ময়দান পরিদর্শন করে অতিথিরা।