Sunday 17 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাইকুনুর জাতের আঙুর চাষে সফল হওয়ার স্বপ্ন জাহাঙ্গীরের

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৭ মে ২০২৬ ১৩:৫১

আঙুর চাষি জাহাঙ্গীর ফকির।

খুলনা: ইউক্রেনের বাইকুনুর আঙুর চাষে সফল হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন খুলনার রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের কাজদিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর ফকির। এরই মধ্যে তিনি পাকা আঙুর বিক্রি শুরু করেছেন। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তার আঙুরের খেত দেখতে ভিড় করছেন।

সরেজমিনে আঙুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর ফকিরের ৮ শতক জমি জুড়ে রয়েছে আঙুরের খেত। সুতা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মাচা। সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে ইউক্রেনের বাইকুনুর জাতের আঙুরের গাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে মিষ্টি রসালো লাল আঙুর। বাগানের চারপাশ নেট দিয়ে ঘেরা। ১৮ মাস আগে ১০০ পিস আঙুর গাছের চারা রোপণ করেছেন তিনি। সবগুলো গাছে আঙুর ধরেছে।

বিজ্ঞাপন

আঙুর চাষি জাহাঙ্গীর ফকির সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবার থেকে পাওয়া ৮ শতক জমিতে বাইকুনুর জাতের আঙুর চাষ করেছি। এটি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় জাত। এর উৎপত্তি স্থান ইউক্রেন। এটি বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুতে অনেক ফল দিতে পারে। সেটা আমরা বাংলাদেশের সবজায়গায় দেখছি। আমার বাগানে অনেক ফলন দিয়েছে। যে ফলনে এলাকাবাসী সবাই আশা যাওয়া করছে, দেখাশোনা করছে। অনেকেই এই আঙুর খেয়ে প্রশংসা করছে। এই আঙুর অনেক মিষ্টি।’

তিনি বলেন, এটি আমাদের বেকার যুবকদের জন্য একটি সম্ভাবনার দুয়ার খোলা সম্ভব। বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় আঙুরের জাত মানানসই। আমার ৮ শতক জমি থেকে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছি। প্রতি কেজি আঙুর পাইকারি বিক্রি করছি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বেশির ভাগ আঙুর ব্যাপারীরা সরাসরি বাগানে এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

জাহাঙ্গীর বলেন, একই সঙ্গে আমি আঙুর গাছের চারাও বিক্রি করছি। প্রতিপিছ চারার মূল্য ২৫০ টাকা। আমরা এ জাতের আঙুর বাড়ির আশেপাশে ছাদবাগানসহ যে কোনো জায়গায় আমরা ফলাতে পারি। তাহলে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারবো বলে আমি মনে করি। আমি বাংলাদেশের বেকার যুবকদের আহ্বান জানাবো বিদেশ ছোটাছুটি না করে বাবার যদি কিছু জমি থাকে, সেখানে ইউক্রেনের বাইকুনুর আঙুর চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আঙুর চাষি জাহাঙ্গীর ফকিরের ছেলে তুহিন ফকির সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার আব্বু দেশি মাল্টা, বরই চাষের পাশাপাশি বাইকুনুর জাতের আঙুর চাষ করেছে। আব্বুর সঙ্গে ফলের বাগানে কাজ করতে নিজের কাছেও খুব ভালো লাগে।’

আঙুর বাগান দেখতে আসা আসাদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের গ্রামে আঙুর বাগান আছে খবর পেয়ে দেখতে এসেছি। বাগানের প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে। বাইকুনুর জাতের আঙুর খেতেও খুব মিষ্টি। আমি এখান থেকে চারা সংগ্রহ করে আঙুর বাগান করার চেষ্টা করবো।’

বাগান দেখতে আসা রিদয় শেখ সারাবাংলাকে বলেন, ‘দেশের মাটিতে বিদেশি ফলের এমন সফল উৎপাদন সত্যিই আশাব্যঞ্জক। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে আমদানিনির্ভরতা কমবে। লাল এই আঙুর গুলো খেতে খুব মিষ্টি। আমি নিজে খেয়ে বাড়ির সবাইকে খাওয়াতে কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

খুলনা নগরীর গল্লামারী বাজারের ফল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার দোকানে বাইকুনুর আঙুর বিক্রি করছি। এ জাতের আঙুর খেতে খুব মিষ্টি। যে কারণে ক্রেতাদের কাছে এ জাতের আঙুরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’

রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা সারাবাংলাকে বলেন, আঙুর একটি উচ্চমূল্যের ফসল। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বাইকুনুর উন্নত জাতের বিদেশি আঙুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য দেখা যাচ্ছে। তার ধারাবাহিকতায় রূপসা উপজেলার কাজদিয়া গ্রামে এই আঙুরের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে নতুন আঙুর চাষিদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ এবং রোগবালাই দমনে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে-কোনো নতুন উদ্যোক্তা চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে গাইডলাইন নিতে পারেন। বাইকুনুর আঙুর অত্যন্ত মিষ্টি এবং রসালো হয়। এটি একটি দ্রুত ফলনশীল এবং আগাম জাত। পাকার পরও ফল সহজে নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘ সময় গাছে ঝুলিয়ে রাখা যায়।’

সারাবাংলা/এএ