সিলেট: মৌলভীবাজারের বড়লেখার দুর্গম এলাকায় ১২ ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে উগ্রবাদী সংগঠনের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চাকরিচ্যুত সদস্য বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তাকে গ্রেফতারের পর রাতেই পুলিশের বিশেষায়িত কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেফতার মো. রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩) ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’র সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
১২ ঘণ্টার অভিযান ও গ্রেফতার
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত মাহেদ বড়লেখা উপজেলার দুর্গম সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই সংবাদের পর মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। দুর্গম বোবারথল ও ষাইটঘরি এলাকার পাহাড়ি ও ঘন জঙ্গল বেষ্টিত অঞ্চলে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা টানা অভিযান চালানো হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে একটি নির্জন টিলার ওপর থেকে মাহেদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
জঙ্গি সম্পৃক্ততা ও হামলার পরিকল্পনা
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, মাহেদ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য, তিনি উগ্রবাদী সংগঠনের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া ইশতিয়াক আহম্মেদ সামীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়।
গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক ‘গোপনীয়’ চিঠিতে জানানো হয়েছিল, মাহেদসহ একটি চক্র জাতীয় সংসদ ভবন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং রাজধানীর শাহবাগ চত্বরের মতো জনবহুল স্থানে নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা করছিল। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার ছকও তাদের পরিকল্পনায় ছিল বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে আসে।
পুলিশের বক্তব্য
বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান শুক্রবার (১৫ মে) জানান, ‘রেড অ্যালার্ট জারির পর থেকেই মাহেদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্য বড়লেখার এই দুর্গম পথটি বেছে নিয়েছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে সিটিটিসি তদন্ত করছে।’
আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতেই মাহেদকে বিশেষ নিরাপত্তায় সিটিটিসি ইউনিটের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্তে এমন বড় মাপের গ্রেফতারের ঘটনায় বড়লেখা ও আশেপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, মাহেদকে গ্রেফতারের ফলে বড় ধরনের কোনো নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।