Friday 22 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঠাকুরগাঁওয়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডব
লণ্ডভণ্ড জনপদ, বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২৬ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩১ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৮

ঠাকুরগাঁও: টানা ২ দিনের কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের জনপদ। ঝড়ের কবলে পড়ে গাছ উপড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পীরগঞ্জে বজ্রপাতে গৃহবধূসহ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কোষারাণীগঞ্জ ও সৈয়দপুর ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পীরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার এবং কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকালে হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় পৃথক দুটি স্থানে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সৈয়দপুর ইউনিয়নের গৃহবধূ সেলিনা আক্তার দুপুরে মাঠের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি আক্রান্ত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক ইলিয়াস আলী বিকেলে নিজের ফসলি জমি দেখতে গিয়েছিলেন। এ সময় বজ্রাঘাতে তিনি প্রাণ হারান। পরে স্থানীয়রা তাকে জমিতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের খবর দেন।

শনিবার সকাল এবং গভীর রাতে দুই দফায় আঘাত হানা এই ঝড়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে পড়ে। এতে পুরো জেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ না থাকায় জেলাজুড়ে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিরাইডগুলো চার্জ দিতে না পারায় রোববার জেলাজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। মানুষকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে। সন্ধ্যার আগেই জেলা শহর জনশূন্য হয়ে এক ভুতুড়ে পরিবেশে পরিণত হয়।

ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা। কালবৈশাখীর ঝাপটায় উপজেলার রত্নাই স্কুলহাট এলাকায় অবস্থিত দবিরিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে। পীরগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু মাদ্রাসাও একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এবারের ঝড়ে ফসলের ওপর দিয়ে মরণ কামড় বসিয়েছে প্রকৃতি।

অতিরিক্ত উপপরিচালক আলমগীর কবীর জানান, দফায় দফায় বৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কৃষকদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, ‘কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে।’

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর