Sunday 26 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজশাহীতে জুতাপেটার শিকার শিক্ষিকা এবং অধ্যক্ষকে অপসারণে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫১

ছবি: সংগৃহীত।

রাজশাহী: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে নারী শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করার ঘটনায় কলেজটির অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক এবং ওই শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরার অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ‘দাওকান্দি এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৩ এপ্রিল কলেজে সংঘটিত ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আংশিক ও বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যার ফলে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তারা দাবি করেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে তারা কলেজে প্রবেশ করেন এবং সে সময় সেখানে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা ১৪৪ ধারা জারি ছিল না।

বিজ্ঞাপন

তফসিরুল কুরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, ‘কিছু মিডিয়া ভুল তথ্য প্রচার করেছে। এতে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে। আমাদের চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কলেজে পূর্বের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালান আলেয়া খাতুন হীরা।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে আকবর আলীকে বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না এবং কোনো সংঘর্ষেও জড়িত ছিলাম না। ভিডিও ফুটেজেও আমাকে দেখা যায়নি। তারপরও কেন আমাকে বহিষ্কার করা হলো, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়।’

তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ফলেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং প্রকৃত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, ‘আমরা চাই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষিকার অপসারণ নিশ্চিত করা হোক এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

তবে এ বিষয়ে আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা হিসাব চাইতেন, যা মূলত চাঁদা দাবির অংশ ছিল। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বলে অভিযোগ করেন।

দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং উভয়পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তফসিরুল কুরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ, বহিষ্কৃত জয়পুরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ইউজদার আলী ও সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর