Thursday 23 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গাইবান্ধায় ইট ভাটার গ্যাসে ২০০ বিঘা জমির ধান নষ্ট

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩৮ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩৯

গাইবান্ধা: জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা এলাকায় একটি ইটভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় প্রায় ২০০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। একই কারণে ভাটার আশপাশের এলাকায় গাছ থেকে ছোট ছোট আম ঝরে যাচ্ছে।

জানা গেছে, গত বছরও আরবিসি ব্রিকস নামের ওই একই ভাটার ধোঁয়ার কারণে ধোপাডাঙ্গা এলাকার জমির ধানসহ গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। পরে ভাটার পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত দেয়নি। নতুন করে গত মঙ্গলবার একই ভাটার গ্যাস নির্গত হয়ে প্রায় ২০০ বিঘা জমির ধানসহ গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, ওই ভাটার পাশে ধানখেতগুলোয় আর কিছু দিনের মধ্যই পাকা শুরু হবে। সোমবার ভোর রাতে এলাকাবাসী হঠাৎ গরম অনুভব করেন। অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে গরমের সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে বমি অনুভব করেন। তাঁরা বুঝতে পারেন আরবিসি ইটভাটা থেকে ধোঁয়া ছেড়ে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী দেখেন খেতের ধানগাছের পাতা লালচে আকার ধারণ করেছে। এসব গাছ আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই ইটভাটার দুই দিকেই আবাদি জমি। পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে মানুষের বসত বাড়ি। ধোঁয়ার কারণে ভাটার উত্তর পাশে প্রায় দুইশো বিঘা জমির ধানগাছের পাতা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। ধানের নতুন ছড়া সাদা হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বজড়া হলদিয়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ওই ভাটার ধোঁয়ায় তার এক বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। প্রতিবেশী শমসের আলীর ৬৬ শতাংশ, সাবু মিয়া ২৬ শতাংশ এবং শফিকুলের ১৯ শতাংশ জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।’

ধোপাডঙ্গার ছাগল কাটি বিলের জোসনা বেওয়া কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘হামি (আমি) বিধবা, প্রতিবন্ধী দুটা ছোল (ছেলে) হামার। সারা বছর জমির ধানের উপর হামি সব করি। ভাটার ঘুমা আসে , হামার সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন হামি কি খায়ে বাঁচমো?’

আরেক নারী শরিফা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী কৃষি কাজ করে। এই ভাটার ধোঁয়ার কারণে হামার দুই বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। হামার পাকা আবাদে ইটভাটা দিয়ে নষ্ট করছে।’

আরেক কৃষক আজাহার বলেন, ‘ওই ইটভাটা বিলের দেড়, দুই বিঘা জমির ধান একবারে পুড়ে ফেলছে। তোমরা হামাদের ব্যবস্থা করে দেন। ক্ষতি পূরণ না পালে বাবা ছাড়ে দিবা লই।’

গাইবান্ধা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক উত্তম কুমার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। কৃষি অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করে ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বলেন , কৃষি অফিস থেকে একজন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিদর্শন করেছেন। এরইমধ্যে ক্ষতি হওয়া ধানের জমিসহ কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড গরমের সময় হঠাৎ বাতাস বইলে ইটভাটার ধোঁয়ায় ফসলের এ ধরনের ক্ষতি হয়। ইটভাটার কাছের জমির ক্ষতি বেশি হয়। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া বিষয়ে ইটভাটার মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে।

এ বিষয়ে আরবিসি ইটভাটার মালিক আলতাফ হোসনের বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সটকে পড়েন। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর