Friday 17 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিলেট পলিটেকনিকে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৭ এপ্রিল ২০২৬ ২২:১৩

ঢাকা: কারিগরি শিক্ষাঙ্গণের জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’র সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সিলেট অঞ্চলের ১৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৪২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে, যার মধ্য থেকে সেরা ৩টি উদ্ভাবন ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচিত প্রকল্পগুলো হলো- স্মার্ট হোম ইকো সিস্টেম (সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট), ফেস ডিটেক্টর (মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট) এবং স্মোক অ্যান্ড ফিউম কনট্রোলিং ওয়েল্ডিং হেলমেট (হবিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ)।

বিজ্ঞাপন

কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ এবং তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার সবার সামনে তুলে ধরার অনন্য এ প্রতিযোগিতাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET) প্রকল্প আয়োজন করে।

দিনব্যাপী আয়োজিত স্কিলস অ্যন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’র অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এনডিসি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। আর উপস্থিত ছিলেন- ASSET প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সামসুর রহমান খান, উপ-প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে দক্ষকর্মীর প্রচুর চাহিদা আছে। আমাদের তত কর্মী নাই। বিশ্ব শ্রমবাজারে আমরা কর্মীর যোগান দিতে পারছি না। যে সকল কর্মী আমাদের আছে, তাদের দক্ষতা নাই।’

তিনি কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আরও বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষা নিয়ে আজ আর তেমন লাভ হচ্ছে না। কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে। আমাদেরকে দক্ষ হতে হবে।’

স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে নতুন নতুন উদ্ভাবনে পারদর্শী হতে হবে। নিজ নিজ অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক সমস্যা নিজেরাই সমাধান করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এ জন্যে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সে লক্ষ্য পুরণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, কারিগরি শিক্ষা এখন আর কোনো বিকল্প ধারা নয়। এ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একটাই লক্ষ্য, হতে হবে দক্ষ – এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

আঞ্চলিক ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ উপলক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য রালি, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাবিষয়ক একটি সেমিনার এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এ প্রতিযোগিতায় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর এবং সিলেট বিভাগ ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের কারিগরি, মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, শিল্পকারখানা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’র প্রাতিষ্ঠানিক পর্ব ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশব্যাপী ২১১টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ হাজার ২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে ৩টি করে প্রকল্প আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাছাই করা হয়।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শেষে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-এর জাতীয় পর্ব আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ৮টি অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত প্রায় ৫০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত বা জাতীয় পর্বে বিজয়ী তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্ভাবকদের দেওয়া হবে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর