Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া, ১৩ বাংলাদেশিকে জেল-জরিমানা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৮ | আপডেট: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৫৫

কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করা রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দেওয়া বাড়ির মালিকদের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলা এলাকায় ক্যাম্প ১১ ও ১২ সংলগ্ন কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। উখিয়া সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়মন সিকদারের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী এ অভিযান চালায়।

বিজ্ঞাপন

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৩টি পৃথক মামলায় মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। জরিমানাপ্রাপ্তদের মধ্যে পালংখালীর শাহিনা আক্তার ও সাজু বেগমকে ১০ হাজার টাকা, মরাগাছতলার মো. হারুনকে ৭ হাজার, সেলিনা আক্তার ও মো. হামিদুল হককে ৫ হাজার টাকা, মো. সৈয়দ আলমকে ২০ হাজার, বালুখালীর মো. নুর হোসেনকে ৩০ হাজার, শিয়ালিপাড়ার আনোয়ারুল আলমকে ২০ হাজার এবং ময়নার ঘোনা এলাকার নুরুল আমিনকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া আটক ৩ বাড়ির মালিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পালংখালীর আব্দুর রশিদ ও পুঠিবনিয়ার মো. আজিজুর রহমানকে ৭ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং রহমতের বিল এলাকার মো. আব্দুল রশিদকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

যৌথবাহিনীর তথ্যমতে, অভিযানে ক্যাম্পের বাইরে স্থানীয়দের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করা মোট ৬২২ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ২১১ জন পুরুষ, ১৯৬ জন নারী ও ২০০ শিশু রয়েছে। তারা সবাই উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বাইরে বসবাস করছিলেন। আটক রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে নিজ নিজ নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর জন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরের বাইরে তাদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া দিতে হলে ভাড়াটিয়াদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ পরিচয় যাচাই, স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ এবং ভাড়াচুক্তি থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযানে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এসব নিয়মের কোনোটি মানা হয়নি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা বলেন, ‘ভবিষ্যতেও শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর