Thursday 30 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় সুনামগঞ্জে বালুমহাল বন্ধ আরও ৫ দিন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:২০
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সুনামগঞ্জ: হাওড়ে বোরো ধান কাটায় শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় সুনামগঞ্জে সব বালুমহাল বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও পাঁচদিন বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৫ মে পর্যন্ত জেলায় বালু উত্তোলন ও পরিবহণ বন্ধ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) এস. এম. ইয়াসির আরাফাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে, ২০ এপ্রিল থেকে ১০ দিনের জন্য জেলার সব বালুমহাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বোরো ধান কাটার মৌসুমে জেলায় ব্যাপক শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের প্রধান খাদ্যশস্য বোরো ধান সময়মতো ঘরে তোলা জরুরি হওয়ায় শ্রমিকের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বালুমহালসহ অন্যান্য স্থান থেকে বালু, মাটি ও বালুমিশ্রিত মাটি উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, অতিবৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন হাওড়ে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে সমস্যা হচ্ছে। হাওড়ে পানি জমে থাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টর ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি হাতে ধান কাটার শ্রমিকেরও সংকট রয়েছে। অতিরিক্ত মজুরি দিলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার ১৩৭টি হাওড়ে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১১ হেক্টরের ধান কাটা হয়েছে, যা মোট আবাদি জমির ৫১ শতাংশ। একই সময়ে ১৩ হাজার ৭৯ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৭ হেক্টর। আরও ৪-৫ দিন পর ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

তবে এ হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন হাওড় আন্দোলনের সদস্যরা। তাদের দাবি, জলাবদ্ধতা ও সাম্প্রতিক বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওড়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সরকারি হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আট মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ১৮ সেন্টিমিটার। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ছিল ২২ মিলিমিটার, তখন নদীর পানি বেড়েছিল ৫৬ সেন্টিমিটার। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘দুইদিন বৃষ্টি কম হওয়াটা স্বস্তির। এখন রোদ ওঠায় কৃষকেরা হাওড়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে সুবিধা পাবেন।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর