মেঘহীন নীরব রজনীতে, যখন সব শব্দ থামে,
বেরিয়ে এসো অন্তরের পথে; নিজেকেই খুঁজে নাও আপন নামে।
চোখ তোলো ধীরে আকাশ পানে, অসীম শূন্যের কোলে,
দেখবে তুমি- তোমারই সত্তা নক্ষত্র হয়ে দোলে।
এই যে বিশাল মহাশূন্য, এ যে নিঃশব্দ গান,
তারই মাঝে তুমি এক ধ্বনি, চিরন্তন অভিমান।
একটি দেহে সীমাবদ্ধ নও, তুমি তারও বেশি কিছু,
সময়ের স্রোতে ভাসমান আত্মা; অনন্তের এক পিছু।
তুচ্ছ যত দ্বন্দ্ব-বিভাজন, সবই মায়ার খেলা,
অহংকারের ক্ষুদ্র দেয়াল গড়ে তোলে মিথ্যে বেলা।
যখন তুমি ভাঙো সে ঘের, নীরবতায় দাও ডুব,
তখনই শোনো অন্তর হতে- অস্তিত্বের সত্যরূপ।
তুমি নও শুধু এই শরীর, নও ক্ষণিকের বাস,
তুমি এক শাশ্বত আলো, জন্ম-মৃত্যুর উর্ধ্বে যার নিঃশ্বাস।
তোমার ভেতর জ্বলে যে দীপ, তা নক্ষত্রেরই অংশ,
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি কণা; তোমারই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
ভয়গুলো সব মিথ্যে ছায়া, বেঁধে রাখে যে মন,
ভেঙে ফেলো সেই অদৃশ্য বাঁধন- জাগাও অন্তর্জ্ঞান।
ইচ্ছের ডানা নয় শুধু, জাগাও চেতনার ডানা,
তবেই তুমি ছুঁতে পারো সেই অনন্তের ঠিকানা।
স্বপ্ন নয়- এ এক স্মরণ, তুমি কে, কোথা থেকে,
ভুলে যাওয়া সেই সত্যটুকু ফিরিয়ে আনো নিজেকে।
মুক্ত শ্বাসে অনুভব করো, সত্তার নিখিল স্পন্দন;
তুমি আর বিশ্ব আলাদা নও- একই চির বন্ধন।
তুমি আছো মানে- অস্তিত্ব জাগে নতুন এক প্রকাশে,
তুমি পারো মানে- সৃষ্টি হাসে তোমারই বিশ্বাসে।
অসীমের দ্বার খোলা চিরকাল তোমার অন্তর-মাঝে,
তুমি যদি নিজেকে চেনো; মহাবিশ্বও ধরা দেয় সাজে।