সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনে যাওয়া কাঁকড়া শিকারি আমিনুর রহমানকে বনবিভাগকর্মীদের গুলিতে নিহতের ঘটনায় বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা ওই ফরেস্ট অফিসের হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় গ্রীল থাই গ্লাস ও দুটি এসি চেয়ার টেবিল ভেঙ্গে ফেলে তারা। এসময় উত্তেজিত জনতার মারপিটে বনবিভাগের ৫ কর্মী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বনবিভাগের গুলিতে জেলে নিহত হওয়ার অভিযোগ
হামলায় বনবিভাগের ৫ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। আহতরা হলেন- ফরেস্টার শেখ মো. ফারুক আহমেদ (৫৫), বনরক্ষী মো. মেজবাউল ইসলাম (৪৫), ফায়জুর রহমান (৪০), আজাদুল ইসলাম (৪২) ও স্বেচ্ছাসেবক এখলাছুর রহমান (২৭)।
এসব বিষয়ে স্থানীয় গাবুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, বনবিভাগের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সুন্দরবন এলাকার মানুষের জিম্মি করে হয়রানি করে আসছে। তিনি আমিনুর হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান বুড়িগোয়ালিনী ফরেষ্ট অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কোন পক্ষই মামলা করেনি।
উল্লেখ্য, ৩ দিন আগে বনবিভাগের পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে দুটি নৌকাযোগে নিহত আমিনুর রহমান গাজীসহ ৪জন বনজীবী সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকারের জন্য যান। সোমবার (১৮ মে) সকাল থেকে খুলনা রেঞ্জের পাটকোসটার ঝিল (অভয়ারণ্য) এলাকায় নৌকায় বসে কাঁকড়া শিকার করছিল তারা। একপর্যায়ে সকাল ৭টার দিকে পার্শ্ববর্তী টহলফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিমের সদস্যরা পিছন থেকে ডাক দেয় কিন্তু জেলেদের যেতে দেরি হওয়ায় টহল টিমের সদস্যরা এক রাউন্ড গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলে আমিনুরের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ নিয়ে গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামে এলে সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হয়ে বিকেলে বুড়িগোয়ালিনী ফরেষ্ট অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।