বাড়ির আঙিনায় বা টবে একরাশ ফুটে থাকা গোলাপ কার না মন ভালো করে দেয়! গরমের দিনে গোলাপ গাছের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। সামান্য কিছু কৌশল মেনে চললেই এই খরতাপেও গাছে আসবে নতুন কুঁড়ি।
গোলাপপ্রেমীদের জন্য রইলো কিছু সহজ কৌশল…
মরা ডালপালা ও বাসি ফুল ছেঁটে ফেলা (প্রুনিং)
গাছের কোনো ফুল শুকিয়ে গেলে তা দ্রুত কেটে ফেলুন। বাসি বা শুকিয়ে যাওয়া ফুল গাছের পুষ্টি উপাদান অযথা শুষে নেয়, যার ফলে নতুন কুঁড়ি আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
করণীয়: ফুল শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ডালের কিছুটা নিচ থেকে কেটে দিন। মাঝেমধ্যে হালকা ডালপালা ছাঁটাই করলে নতুন কচি ডাল গজায় এবং গাছের ফুল ফোটানোর ক্ষমতা বাড়ে।
ঘরোয়া সারের জাদুকরী ব্যবহার
দোকানের রাসায়নিক সারের চেয়ে গরমের দিনে ঘরোয়া ও জৈব সার গোলাপ গাছের জন্য বেশি নিরাপদ ও কার্যকরী।
কলার খোসা: কলার খোসায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা ফুল ফোটাতে প্রধান ভূমিকা রাখে। কলার খোসা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিন।
ব্যবহৃত চা-পাতা: চা খাওয়ার পর পাতাগুলো ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। এই শুকনা চা-পাতা গাছের গোড়ায় দিলে মাটির উর্বরতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
গোবর সার: গাছের সার্বিক বৃদ্ধি ও পাতা সবুজ রাখার জন্য নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ভালো মানের পচা গোবর সার মাসে অন্তত একবার মা মাটিতে যোগ করুন।
সঠিক নিয়মে সেচ দেয়া
গ্রীষ্মকালে গাছে পানি দেওয়ার সময় ও পরিমাণের ওপর গাছের সুস্থতা নির্ভর করে। ভুল সময়ে পানি দিলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে।
সঠিক সময়: কড়া রোদের মধ্যে কখনো পানি দেবেন না। সকালের সূর্য ওঠার আগে অথবা পড়ন্ত বিকেলে বা সন্ধ্যায় পানি দিন।
পরিমাণ: টবের মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে এলে তবেই পানি দিন। গোড়ায় যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
রোদের তীব্রতা থেকে সুরক্ষা
গোলাপ গাছ রোদ পছন্দ করলেও জ্যৈষ্ঠের গনগনে দুপুরের রোদ গাছের ক্ষতি করতে পারে।
স্থান নির্বাচন: টবটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সকালের মিষ্টি রোদ অন্তত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে দুপুরের তীব্র ও সরাসরি রোদ থেকে গাছকে কিছুটা আড়ালে রাখার ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।
বিশেষ পরামর্শ: গরমে গাছে কোনো ধরনের কড়া রাসায়নিক সার ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ অতিরিক্ত গরমে রাসায়নিক সার গাছের শিকড় পুড়িয়ে দিতে পারে।