তীব্র গরমে কেবল মানুষ নয়, আপনার আদরের পোষা প্রাণীটিও সমানভাবে ঝুঁকির মুখে থাকে। আমরা ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা রাখতে পারলেও প্রাণীদের সেই ক্ষমতা সীমিত। ফলে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় তারা খুব দ্রুত পানিশূন্যতা বা হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে। একটু সচেতন হলে এবং সঠিক যত্ন নিলে এই বিপদ এড়ানো সম্ভব।
আসুন জেনে নেই আপনার আদরের পোষা প্রাণীকে এই গরমে সুরক্ষিত রাখার কিছু উপায়…
পানির জোগান নিশ্চিত করা
গরমের সময় পোষ্যের শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সবসময় তাদের নাগালের মধ্যে পরিষ্কার ও শীতল পানি রাখুন। পানি দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা রাখতে তাতে দু-একটি বরফ কুচি দিয়ে দিতে পারেন। এটি তাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে।
বাতাস চলাচল ও ছায়াযুক্ত স্থান
পোষ্যকে সরাসরি তপ্ত রোদে রাখা একদমই উচিত নয়। যদি সে বাইরে থাকে, তবে অবশ্যই বড় গাছের নিচে বা শেডের ব্যবস্থা করুন। ঘরের ভেতর রাখলে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন এবং ঘর যেন গুমোট বা অতিরিক্ত গরম না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
ভ্রমণ ও ব্যায়ামের সময় পরিবর্তন
দুপুরের কড়া রোদে পোষ্যকে নিয়ে বাইরে হাঁটাহাঁটি বা খেলাধুলা করা থেকে বিরত থাকুন। বাইরে বের করার সবচেয়ে ভালো সময় হলো খুব ভোরে অথবা সন্ধ্যায়, যখন আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকে। মনে রাখবেন, দুপুরের তপ্ত পিচঢালা রাস্তা বা কংক্রিট আপনার পোষ্যের পায়ের নরম তালু পুড়িয়ে দিতে পারে।
বন্ধ গাড়িতে কখনোই নয়
অনেকে খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও পোষ্যকে গাড়ির ভেতরে একা রেখে যান, যা জীবনঘাতী হতে পারে। বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে বা হিটস্ট্রোকে পোষ্যের মৃত্যু হতে পারে।
লক্ষণ দেখে সতর্ক হওয়া
যদি দেখেন আপনার পোষ্য অতিরিক্ত হাঁপাচ্ছে, মুখ দিয়ে প্রচুর লালা ঝরছে, খুব অলস হয়ে পড়েছে কিংবা বমি করছে, তবে দেরি করবেন না। এগুলো হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ। এমন অবস্থায় দ্রুত তাকে ঠান্ডা স্থানে নিয়ে শরীর মুছে দিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পোকামাকড় থেকে সুরক্ষা
গরম বাড়লে মাছি, উকুন বা মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এগুলো পোষ্যের শরীরে চর্মরোগ বা অন্যান্য সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই নিয়মিত তার শরীর পরিষ্কার রাখুন এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিন।