ঢাকা: পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা বা প্রায় ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। পিডিবি আগামী ১ জুন থেকে এই নতুন দর কার্যকর করার সুপারিশ করেছে।
গণশুনানিতে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দর ৭ টাকা ৪ পয়সা, অথচ গত অর্থবছরে এর উৎপাদন খরচ ছিল ১৩ টাকা ১৯ পয়সা। এতে বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবসহ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় চলতি অর্থবছর এই ঘাটতি ৬৩ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা না হলে খাতটি মারাত্মক আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
পিডিবির প্রস্তাবে জানানো হয়, ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা দাম বাড়ানো হলে ঘাটতি ১৩ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা এবং ১ টাকা ৫০ পয়সা হারে দাম বাড়ালে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে। তবে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন গণশুনানিতে উপস্থিত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের সদস্যরা।
তারা বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের দায় সাধারণ গ্রাহকের কাঁধে চাপানো হচ্ছে। তারা উল্টো বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি জানান।
অংশীজনরা আরও বলেন, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং উৎপাদনমুখী শিল্পখাতও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর পরবর্তী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছে বিইআরসি।