Thursday 23 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঘরের কোণে এক চিলতে অরণ্য: স্বল্প যত্নে সবুজের ছোঁয়া

লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০৩

শহুরে জীবনে খাঁচায় বন্দি জীবনে একটুখানি সবুজের দেখা পাওয়া যেন এক পশলা বৃষ্টির মতো প্রশান্তির। সারাদিন অফিস বা চার দেয়ালের মাঝে আটকে থেকে অনেকের মনেই ক্লান্তি আর স্ট্রেস বাসা বাঁধে। এই অবসাদ কাটিয়ে উঠতে ঘর বা অফিসের ডেস্কে জায়গা করে নিতে পারে ‘পোথোস’ (Pothos) গোত্রের গাছ। গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজের সান্নিধ্য কর্মদক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুশ্চিন্তা ও মানসিক বিষণ্ণতা কমিয়ে মনে আনন্দের সঞ্চার করে।

কেন বেছে নেবেন পোথোস?

যারা ব্যস্ততার কারণে গাছের যত্ন নেওয়ার সময় পান না, অথচ ঘরকে সাজাতে চান সবুজে, তাদের জন্য পোথোস এক আদর্শ সমাধান। এই গাছগুলো ভীষণ সহনশীল; সামান্য অবহেলাতেও এরা মরে যায় না। ইনডোর প্ল্যান্টের জগতে পোথোসকে বলা হয় ‘বিগিনার ফ্রেন্ডলি’ বা নতুনদের জন্য সবচেয়ে সহজ গাছ।

বিজ্ঞাপন

নজরকাড়া বৈচিত্র্য ও সাজসজ্জা

পোথোসের পাতায় সবুজের নানা শেড এবং তার মাঝে সাদা বা ঘিয়ে রঙের কারুকাজ ঘরের পরিবেশকে এক নিমিষেই বদলে দেয়। আমাদের দেশে বেশ কিছু জনপ্রিয় জাত পাওয়া যায়…

গোল্ডেন পোথোস: সবুজ পাতায় সোনালি আভা।

মার্বেল কুইন: পাতাজুড়ে সাদা ও সবুজের অসাধারণ মিশেল।

নিয়ন পোথোস: উজ্জ্বল টিয়া রঙের বাহারি পাতা।

এনজয় ও মঞ্জুলা: ছোট আকৃতির এবং কারুকাজ করা পাতা।

লতাজাতীয় এই উদ্ভিদগুলো বইয়ের তাক, জানালার গ্রিল, ঝুলন্ত বাস্কেট কিংবা অফিসের ডেস্কে খুব সহজেই মানিয়ে যায়। এমনকি বাতাস থেকে টক্সিন দূর করে ঘরের আবহাওয়া সতেজ রাখতেও এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণের সহজ পাঠ

পোথোস বড় করতে আপনাকে খুব বেশি ঘাম ঝরাতে হবে না, শুধু কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলেই চলবে…

আলো ও তাপমাত্রা: সরাসরি সূর্যের আলো এদের প্রয়োজন নেই। উজ্জ্বল ছায়া বা মৃদু আলোতেই এরা দিব্যি বেড়ে ওঠে। তবে পাতার রঙ ফিকে হয়ে গেলে বুঝতে হবে আলোর একটু ঘাটতি আছে।

পানির হিসাব: গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে শিকড় পচে যেতে পারে। তাই টবের মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই পানি দিন। পাতা যদি হলুদ বা বাদামি হয়ে ঝরে পড়ে, তবে বুঝবেন গাছটি তৃষ্ণার্ত।

পরিচ্ছন্নতা: মাঝেমধ্যে ভেজা কাপড় দিয়ে পাতাগুলো মুছে দিলে গাছের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়।

বংশবিস্তার: এই গাছ বাড়ানো খুব সহজ। একটি পুষ্ট লতা কেটে দুই-তিন দিন পানিতে ডুবিয়ে রাখলেই নতুন শিকড় গজায়। এরপর তা নতুন টবে বা সৌখিন কাঁচের জারে সাজিয়ে রাখা যায়।

টিপস: যদি কখনো গাছে পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখেন, তবে সামান্য অ্যালকোহল মেশানো তুলা দিয়ে পাতা মুছে নিলেই সমস্যা দূর হবে। এক থেকে তিন মাস অন্তর সামান্য জৈব সার দিলেই আপনার এক চিলতে বাগান হয়ে উঠবে আরও সতেজ।

নগরজীবনের যান্ত্রিকতা ভুলে নিজের ঘরে সবুজের মায়া ছড়াতে আজই একটি পোথোস হতে পারে সহজ সমাধান। কারণ এটি কেবল আপনার ঘর সাজাবে না, আপনার মনের প্রশান্তিও নিশ্চিত করে।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর