ভ্যাপসা গরমে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়া বা পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। এই সময়ে সুস্থ থাকতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মৌসুমি ফলের কোনো বিকল্প নেই। তবে প্রতিদিন একই নিয়মে ফল না খেয়ে যদি একটু মুখরোচক উপায়ে পরিবেশন করা যায়, তবে স্বাদের পাশাপাশি মিলবে পুষ্টিও। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও বেশ আগ্রহ নিয়ে খাবে এই ফল।
আপনার ঘরোয়া আয়োজনে ভিন্নতা আনতে তৈরি করতে পারেন এই তিন ধরনের সুস্বাদু ফ্রুট চাট …
পঞ্চরত্ন মিক্সড চাট
সব ধরণের ফলের পুষ্টিগুণ একসঙ্গে পেতে মিক্সড চাট অতুলনীয়। আপেল, কলা, নাশপাতি, কমলা ও আঙুর ছোট কিউব করে কেটে নিন। একটি বাটিতে ফলগুলো নিয়ে তার ওপর সামান্য বিট লবণ, চাট মশলা, ভাজা জিরার গুঁড়া এবং এক চিমটি গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন। স্বাদে ভিন্নতা আনতে ওপর থেকে সামান্য লেবুর রস ও কুচি করা পুদিনা পাতা মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
আনারসের চটপটি চাট
যাঁরা টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য আনারস চাট সেরা পছন্দ হতে পারে। আনারস ডুমো করে কেটে নিয়ে এতে চিলি ফ্লেক্স (শুকনো মরিচ গুঁড়া), সামান্য চিনি ও পুদিনা বাটা মিশিয়ে নিন। চাইলে এতে সামান্য কাসুন্দিও যোগ করতে পারেন। এটি যেমন হজমে সাহায্য করবে, তেমনি মুখের রুচি ফেরাতেও কাজ করবে জাদুর মতো।
ক্রিমি দই-ফ্রুট চাট
শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে আনতে টক দইয়ের সঙ্গে ফলের মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকরী। প্রথমে জল ঝরানো টক দইয়ের সঙ্গে সামান্য মধু বা চিনি, জিরার গুঁড়া ও গোলমরিচ দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। এবার তাতে বেদানা, আপেল ও আঙুরের টুকরো মিশিয়ে দিন। পরিবেশনের ৩০ মিনিট আগে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিলে এটি আইসক্রিমের চেয়েও বেশি তৃপ্তি দেবে।
কেন খাবেন এই ফ্রুট চাট?
দ্রুত শক্তি দেয়: ফলে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা তাৎক্ষণিক ক্লান্তি দূর করে।
হজম সহজ করে: মশলায় ব্যবহৃত জিরা ও পুদিনা হজম প্রক্রিয়া সচল রাখে।
বিষমুক্ত শরীর: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই চাটগুলো শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।
বাইরের অস্বাস্থ্যকর খোলা খাবার বা রাস্তার ধারের কাটা ফল এই গরমে ডায়রিয়া বা জন্ডিসের কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে বাড়িতেই এই পুষ্টিকর চাটগুলো তৈরি করুন।