Sunday 28 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার দোয়া

সারাবাংলা ডেস্ক
২৮ জুন ২০২৬ ১৯:৫১

জীবন অনেক সময় আমাদের এমন কিছু কঠিন চৌরাস্তায় এনে দাঁড় করায়, যেখানে একটিমাত্র সিদ্ধান্ত পুরো ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ‘কোন পেশাটি বেছে নেব?’, ‘কাকে জীবনসঙ্গী করব?’ কিংবা ‘জীবনের পরবর্তী বড় পদক্ষেপটি কী হবে?’, এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে আমাদের মন ক্লান্ত ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রতিটি পথেই কোনো না কোনো ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা উঁকি দেয়। এমনকি অনেকে ইস্তিখারা করার পরেও পুরোপুরি দ্বিধামুক্ত হতে পারেন না।

ঠিক এই রকম মানসিক দোলাচল ও বিভ্রান্তির মুহূর্তে সঠিক ও কল্যাণকর পথটি বেছে নেওয়ার জন্য আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের অত্যন্ত চমৎকার ও সংক্ষিপ্ত একটি দোয়া শিখিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো সেই বিশেষ দোয়া

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রিয় জামাতা ও বীর সাহাবী হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে একটি ছোট্ট কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়া শিখিয়েছিলেন, যা মনের সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।

নেতা, বিচারক এবং পারিবারিক প্রধান হিসেবে হযরত আলী (রা.)-কে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে অসংখ্য জটিল ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতো। সেই দায়িত্বপূর্ণ জীবনে এই সংক্ষিপ্ত দোয়াটিই ছিল তার পথচলার অন্যতম প্রধান শক্তি ও ভরসা। আপনার জীবনের কঠিনতম সিদ্ধান্তগুলোর মুহূর্তেও এটি হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহ্-দিনী ওয়া সাদ্দিদনী।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং আমাকে সোজা ও সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর অবিচল রাখুন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৭২৫)

মাত্র দুটি শব্দে জীবনের মূল চাবিকাঠি

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়ায় কোনো দীর্ঘ তালিকা দেননি, বরং মাত্র দুটি শব্দের মধ্যে জীবনের শ্রেষ্ঠতম চাওয়াগুলো লুকিয়ে দিয়েছেন:

হেদায়াত বা পথপ্রদর্শন (اهْدِنِي – ইহদিনী): এর অর্থ হলো আল্লাহর কাছে এমন অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞা চাওয়া, যা আপনাকে আলো ও অন্ধকারের পার্থক্য এবং সঠিক ও ভুলের তফাত বুঝতে সাহায্য করবে।

তীরের মতো সোজা ও অবিচল থাকা (سَدِّدْنِي – সাদ্দিদনী): ধনুক থেকে ছুটে যাওয়া তীর যেভাবে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করে, ঠিক তেমনি আপনি যেন সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারেন এবং নেওয়ার পর কোনো সংশয় ছাড়াই সেই পথে দৃঢ়ভাবে টিকে থাকতে পারেন।

কখন এবং কীভাবে পড়বেন?

নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই: এই দোয়াটি পড়ার জন্য ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তাই ছোট-বড় যেকোনো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেই মনে মনে এটি বারবার পড়তে থাকুন।

দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত: যেকোনো সাধারণ সময়ে পড়ার পাশাপাশি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়গুলোতে (যেমন: শেষ রাতের তাহাজ্জুদে, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে কিংবা সেজদারত অবস্থায়) এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করুন।

উল্লেখ্য, মানুষ হিসেবে আমাদের বুদ্ধি, জ্ঞান এবং দূরদর্শিতার একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই জীবনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে নিজের চেষ্টার পাশাপাশি এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা (তাওয়াক্কুল) রাখুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার ওপর ভরসাকারী বান্দাকে কখনো পথভ্রষ্ট ও হতাশ করেন না।