ঈদের লম্বা জার্নিতে মহাসড়কের মাইলের পর মাইল ফাঁকা রাস্তা কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজট সামাল দিয়ে আপনাকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে আপনার প্রিয় মোটরসাইকেল। তবে একটানা এত দীর্ঘ পথ চলার কারণে রাইডারের মতো বাইকের ওপর দিয়েও কিন্তু কম ধকল যায় না। তাই ঈদ পরবর্তী সময়ে বাইকের ইঞ্জিন সচল, মাইলেজ ঠিক ও পারফরম্যান্স নতুনের মতো ধরে রাখতে দ্রুত কিছু জরুরি মেইনটেইন্যান্স বা যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। রাইড শেষে অলসতা না করে মোটরসাইকেলের মৌলিক কয়েকটি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করলে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং আর্থিক ক্ষতি, দুটো থেকেই বেঁচে থাকা সম্ভব।
আসুন জেনে নেই করণীয়…
লং ট্যুর থেকে ফেরার পর সবচেয়ে প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো ইঞ্জিন অয়েল বা মবিল পরিবর্তন করা। একটানা হাইওয়েতে উচ্চ গতিতে চলা এবং জ্যামের মধ্যে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার কারণে মবিলের কার্যক্ষমতা বা ভিসকোসিটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাইকের ইঞ্জিন অয়েলের গ্রেড অনুযায়ী সেটি দ্রুত বদলে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যা ইঞ্জিনের ভেতরের যন্ত্রাংশগুলোকে ঘর্ষণজনিত ক্ষয় থেকে রক্ষা করে বাইকের স্মুথনেস বজায় রাখবে।
এর পাশাপাশি নজর দিতে হবে এয়ার ফিল্টারের দিকে। মহাসড়কে বা গ্রামীণ রাস্তায় চলার সময় বাতাসে থাকা প্রচুর ধুলাবালি বাইকের এয়ার ফিল্টারে জমা হয়। ফিল্টার জ্যাম হয়ে গেলে ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত বাতাস পৌঁছাতে পারে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মাইলেজের ওপর। এতে বাইকের রেডি পিকআপ কমে যায় এবং জ্বালানি খরচ এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যায়। তাই মেকানিকের কাছে গিয়ে প্রেসারাইজড হাওয়া দিয়ে ফিল্টারটি পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি, আর বেশি ময়লা হলে তা বদলে ফেলাই ভালো।
দীর্ঘ পথ চলায় মোটরবাইকের ড্রাইভ চেইনের ওপরও সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। রাস্তার কাদা, পানি ও ধুলার কারণে চেইনের ভেতরের লুব্রিকেন্ট শুকিয়ে যায় এবং চেইন ঢিলে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা রাইড করার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই সমস্যা এড়াতে চেইনের টেনশন বা টাইট ঠিকঠাক করে তা ভালোভাবে ওয়াশ করতে হবে এবং এরপর ভালো মানের চেইন লুব বা গিয়ার অয়েল ব্যবহার করতে হবে, যা চেইন স্প্রকেটের স্থায়িত্ব অনেক দিন বাড়িয়ে দেবে।
হাইওয়েতে বাইকের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রেকের ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশি আর অতিরিক্ত ব্রেকিংয়ের ফলে ব্রেক প্যাড বা শু দ্রুত ক্ষয়ে যায়। তাই ট্যুর থেকে ফেরার পর অবশ্যই সামনের ও পিছনের ব্রেক প্যাডের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। ক্ষয়ে যাওয়া প্যাড নিয়ে বাইক চালালে ব্রেক ডিস্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর পাশাপাশি ব্রেক অয়েলের লেভেল ঠিক আছে কিনা তাও নিশ্চিত করে নেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে, দূরপাল্লার রাইডের কারণে টায়ারে কোনো সূক্ষ্ম লিক হয়েছে কিনা বা প্রেশার কমে গেছে কিনা তা চেক করে নেওয়া দরকার, কারণ অতিরিক্ত লোডে টায়ারের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একই সাথে ইঞ্জিনের ভালো কম্বাশন, সঠিক পাওয়ার ও মাইলেজ ধরে রাখার জন্য স্পার্ক প্লাগটি খুলে ভেতরের কার্বন পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। ঈদ পরবর্তী সময়ে মোটরসাইকেলের এই সাধারণ যত্নগুলো আপনার প্রিয় বাহনটিকে রাখবে একদম সুরক্ষিত, দীর্ঘস্থায়ী ও পারফেক্ট।