Sunday 31 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদের ছুটিতে ৬ দিনে রাজধানী থেকে ১৩ মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩১ মে ২০২৬ ১৮:২৪

প্রতীকী ছবি

ঢাকা: রাজধানীতে ২৬ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গা থেকে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের পর মরদেহগুলো পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এর মধ্যে রোববার (৩১ মে) বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর সবুজবাগ মাদারটেকের বাসা থেকে ফারুক হোসেন (৪২) নামে এক সিএনজি চালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাবুদ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে সবুজবাগ পুর্ব মাদারটেকের বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।’

জানা গেছে, পারিবারিক কলোহের জেরে শনিবার রাতের যেকোনো সময় আনোয়ার হোসেন স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁসি দেয়। সকালে দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকজন মুগদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যায়।

বিজ্ঞাপন

মৃত আনোয়ারের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি উপজেলার দীঘির পাড় এলাকায়। বাবার নাম আব্দুস সাত্তার ব্যাপারী। সবুজবাগ পুর্ব মাদারটেক এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি।

এর আগে গত ২৭ মে যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইল ঠাকুরবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে শ্রাবণী আক্তার পলি (২৮) নামে এক গৃহিণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসেন উল্লেখ করেন, স্বামী কাজী ইশতিয়াক আহমেদ ইমরানের সঙ্গে যাত্রাবাড়ি মাতুয়াইল কেরানীপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন। ওই দিন স্বামীর সঙ্গ পারিবরিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে বাসার জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি।

২৬ মে রাত ৯ টার দিকে দক্ষিণ বাড্ডা দারোগাবাড়ি এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে উদ্ধার করা হয় মামুনুর রশিদ (৩৫) নামে এক চাকরিজীবীর ঝুলন্ত মরদেহ। ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু ইউসুফ উল্লেখ করেন, পারিবারিক কলহের কারণে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক সুব্রত পাল উল্লেখ করেন, পূর্ব রামপুরা অগ্নিশিখা গলির একটি বাসা থেকে ২৮ মে রাত সাড়ে নয়টার দিকে উদ্ধার করা হয় আব্দুল্লাহ (২৪) নামে এক ব্যক্তির যুবকের মরদেহ। আর্থিক সংকট ও বেকারত্বের কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা যায়।

আর গত ২৯ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাটারা সোলমাইদ ব্যাপারীবাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় পূর্ণিমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহিনীর মরদেহ। ভাটারা থানার এসআই মো. ইয়াউর রহমান জানান, মৃত পুর্ণিমা ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার বিন্নাকুড়ি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে। বর্তমানে স্বামী রাজমিস্ত্রী স্বপন ও ছয় বছরের মেয়ে জান্নাতকে নিয়ে ভাটারা সোলমাইদ ব্যাপারী বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বেশ কিছুদিন ধরে সাংসারিক বিষয় নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনমালিন্য চলছিল। এর জের ধরে স্বামী তার স্ত্রী পূর্ণিমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে শিশু সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

গত ২৯ মে দুপুরে ভাটার সোলমাইদ এলাকার বাসা থেকে মনির গাজী (২৪) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ভাটারা থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মনির ফুডপাণ্ডার রাইডার হিসেবে চাকরি করতেন। গত ২৫ মে বাড়িওয়ালা রায়হান দর্জির সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়। এর পর ঈদের দিন দুপুরে টিনশেডের তিনতলায় মনিরকে কোরবানির মাংস দিতে গেলে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পায়। সেই সঙ্গে প্রচুর দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এর পর তিনি আশেপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে দরজা খুলে মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত মনিরের বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলি উপজেলায়।

এদিকে কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম আশ্রাফাবাদ এলাকার একটি বাসা থেকে ২৯ মে রাত ৯টার দিকে এনামুল ওরফে সুমন (২৫) নামে এক রিকশাচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসআই ব্রজ কিশোর পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডেমরা মেন্দিপুর আমান মার্কেট এলাকার নিজ বাড়ির পাশে ২৮ মে দুপুর ২ টার দিকে আবাদি জমির পানিতে ডুবে মারা যায় অয়ন্তী নামে দুই বছরে এক শিশু। পরিবার দেখতে পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শাহবাগ থানাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে ফুটপাত থেকে ২৮ মেয়ে সকাল ৭টার দিকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাতনামা এক ভবঘুরের ব্যক্তির (৫০) মরদেহ। এসআই রাসেল পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডেমরার ডগাইর পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে শাকিল হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে ডেমরা থানা পুলিশ। এসআই আহসান হাবিব সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, শাকিল একটি প্যাকেজিং কারখানায় চাকরি করতেন। একটি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটি নিয়ে পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে বাড়ির পাশে সজনে গাছের ডালের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে শাকিল।

দারুসসালাম থানা সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার আগের দিন বুধবার (২৭ মে) দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ট্রিপোল নাইনের মাধ্যমে খবর পেয়ে দারুসসালাম থানার পুলিশ হরিরামপুর এলাকার টিনের ছাপড়া ঘরের মেঝে থেকে নূর মোহাম্মদ ওরফে হৃদয় (২৫) এবং তাঁর স্ত্রী ঝুমা আক্তারের (১৮) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। নূর মোহাম্মদ ও ঝুমা আক্তারের দু/তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। ঝুমা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

দারুসসালাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল হোসেন বলেন, ‘ঝুমার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, বাসার ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা ঝুমার স্বজনদের খবর দেয়। পরে স্বজনেরা দরজা ভেঙে ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় নূর মোহাম্মদ ও ঝুমার মরদেহ দেখতে পান।’

ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

একই দিন বিকেলে তেজগাঁও বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সাততলা থেকে নিচে পড়ে সৌরভ (২৭) নামের এক শিক্ষার্থী মারা গেছেন। তিনি রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতেন।

তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু মারমা বলেন, বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে সাততলা থেকে সৌরভ একেবারে নিচে পড়ে আহত হয়। এর পর ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, ‘পড়ে যাওয়ার পর সৌরভের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি ভেঙে যায়। এরপর তার সিমটি অন্য একটি মুঠোফোনে ভরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলায়।’

সৌরভকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তাকর্মী তন্ময় দাস বলেন, ‘শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে মাঝখানের অংশে ওপর থেকে পড়ে গিয়েছিলেন সৌরভ।’

সারাবাংলা/এসএসআর/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর