Wednesday 13 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল: ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’-এর জীবনসংগ্রাম

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১২ মে ২০২৬ ১৭:২৪

১২ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হলো আধুনিক নার্সিং সেবার অগ্রদূত ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের জন্মবার্ষিকী ও বিশ্ব নার্স দিবস। ১৮২০ সালে ইতালির এক অভিজাত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী নারী তৎকালীন সমাজের নিচুমানের পেশা হিসেবে বিবেচিত রোগীদের সেবাকে বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক পেশায় রূপান্তর করেছেন।

গণিতবিদ থেকে মানবসেবার ব্রত

অত্যন্ত মেধাবী এই নারী শুধু সেবিকাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ পরিসংখ্যানবিদ। পরিবারের প্রবল বাধা সত্ত্বেও তিনি গণিত এবং পরিসংখ্যান অধ্যয়ন করেন এবং প্রথম নারী হিসেবে রয়্যাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি সেবিকা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৮৫৪ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধে আহত সৈন্যদের সেবায় নিয়োজিত হন।

বিজ্ঞাপন

যেভাবে হলেন ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’

ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনায় যখন হাজার হাজার সৈন্য ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডে মারা যাচ্ছিল, তখন তিনি নিজের দল নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করেন। গভীর রাতে হাতে মোমবাতি নিয়ে তিনি আহত সৈন্যদের পাশে দাঁড়াতেন বলে বিশ্বজুড়ে তিনি ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ নামে পরিচিতি পান। তার পরিসংখ্যানগত উপাত্ত ব্যবহার করে তৈরি করা ‘পোলার এরিয়া ডায়াগ্রাম’ হাজার হাজার সৈন্যের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল।

সেবাকে পেশায় রূপান্তর ও শেষ জীবন

যুদ্ধের পর ফিরে এসে তিনি জাতীয় নায়িকার মর্যাদা পান। প্রাপ্ত ৪৫ হাজার পাউন্ড পারিশ্রমিক নিজের জন্য ব্যয় না করে তিনি লন্ডনের সেন্ট টমাস হাসপাতালে আধুনিক নার্সিং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ের বহু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি আজীবন অবিবাহিত থেকে মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। ১৯০৭ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘অর্ডার অব মেরিট’ সম্মান প্রদান করে। ১৯১০ সালের ১৩ আগস্ট ৯০ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি নীরব প্রয়াণ ঘটে। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় আড়ম্বর ছাড়াই তাকে অত্যন্ত সাধারণভাবে সমাহিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর