বলিউডের প্রভাবশালী সুপারস্টার আমির খান সম্প্রতি মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিশেষ বিবাহ আইনে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করে জীবনের তৃতীয় ইনিংস শুরু করেছেন। তবে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত এই অভিনেতার নতুন জীবনের শুরুতেই ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বজরং দল’-এর পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নবপরিণীতা স্ত্রীর পরিচয়কে কেন্দ্র করে অভিনেতার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে তাকে ভারত থেকে বিতাড়িত করার সরাসরি হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গুগলের ট্রেন্ড ও সার্চ তালিকায় বিনোদন জগতের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং ঘটনাটি সারাবাংলা ডট নেট সহ উপমহাদেশের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর মনোযোগের কেন্দ্রে চলে এসেছে।
আমির খানের এই তৃতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে ভারতের বিহারের ফোরবেসগঞ্জ এলাকায় বজরং দলের নেতা-কর্মীরা এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে, যেখানে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা এই বলিউড অভিনেতার কুশপুত্তলিকা দাহ করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের ‘আমির খান মুর্দাবাদ’ এবং ‘জিহাদি আমির খান ভারত ছাড়ো’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। বজরং দলের স্থানীয় নেতা মনোজ সোনি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযোগ এনেছেন যে, আমির খান বারবার হিন্দু নারীদের বিয়ে করে সামগ্রিক হিন্দু সমাজকে অবমাননা করছেন এবং এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমির খানের কেন কোনো মুসলিম নারী পছন্দ হয় না এবং কেন তিনি বারবার অমুসলিম মেয়েদের বিয়ে করে তৈমুজ, আফরোজ বা সালমানদের বাবা হচ্ছেন। অমুসলিম নারীদের বিয়ে করা বন্ধ না করলে এই অভিনেতাকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপরাধে আমিরের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এর আগে ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করার পর ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয় এবং পরবর্তীতে ২০০৫ সালে নির্মাতা কিরণ রাওয়ের সঙ্গে দ্বিতীয়বার গাঁটছড়া বাঁধলেও ২০২১ সালে তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে।