সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। রক ব্যান্ড ‘ট্র্যাফিক’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, কালজয়ী গিটারিস্ট এবং অনন্য গীতিকার ডেভ মেসন আর নেই। গত ১৯ এপ্রিল নেভাদার গার্ডনারভিলে নিজ বাসভবনে ৭৯ বছর বয়সে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করার পর বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডের ওরচেস্টারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গিটারের ঝংকারে মাতিয়ে রেখেছিলেন কয়েক প্রজন্মের শ্রোতাদের।
ষাট ও সত্তরের দশকের উত্তাল রক সংগীতের অন্যতম কারিগর ছিলেন ডেভ মেসন। ১৯৬৭ সালে ট্র্যাফিক ব্যান্ড গঠনের মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ব সংগীতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তার অসামান্য সৃজনশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে এই ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে তিনি মর্যাদাপূর্ণ রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। মেসনের প্রতিভা কেবল গিটার বাজানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তার লেখনী থেকে বের হয়েছে ‘ফিলিন অলরাইট?’-এর মতো কালজয়ী গান। পরবর্তীতে জো ককারের কণ্ঠে গানটি বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া তার সৃষ্টি ‘হোল ইন মাই শু’ গানটি সেই সময় যুক্তরাজ্যের চার্টে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছিল।
ডেভ মেসনের সংগীতজীবন ছিল বৈচিত্র্যময় এবং বর্ণাঢ্য। তিনি তার সময়ে প্রায় সব বড় তারকা ও ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার গৌরব অর্জন করেছিলেন। পল ম্যাককার্টনি, দ্য রোলিং স্টোনস, জিমি হেনড্রিক্স থেকে শুরু করে এরিক ক্ল্যাপটন, মাইকেল জ্যাকসন এবং ফ্লিটউড ম্যাকের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে তার কাজের অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। ১৯৭৭ সালে তার গাওয়া একক গান ‘উই জাস্ট ডিসএগ্রি’ তাকে সাফল্যের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে তিনি প্রকাশ করেন তার সর্বশেষ একক অ্যালবাম ‘আ শেড অব ব্লুজ’, যা আবারও প্রমাণ করেছিল বয়সের ভারে তার সুরের ধার কমেনি।
বিশাল জনপ্রিয়তা আর আকাশচুম্বী সাফল্য সত্ত্বেও ডেভ মেসন ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। নিজেকে বড় কোনো ‘রকস্টার’ হিসেবে জাহির করা কখনোই তার স্বভাবে ছিল না। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের পূর্বনির্ধারিত ওয়ার্ল্ড ট্যুর স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হৃদয়ে সুর বয়ে চলা এই নির্লোভ শিল্পী নীরবে নিভৃতে বিদায় নিলেও তার সৃষ্টিগুলো রক সংগীতের ইতিহাসে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। গানের প্রতিটি মূর্ছনায় ভক্তরা বারবার খুঁজে পাবেন প্রিয় এই গিটার জাদুকরকে।