ঢাকা: নতুন বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই আরও ছয়টি পাটকল বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলগুলোকে পুনরায় উৎপাদনমুখী করতে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বন্ধ মিল ইজারা সংক্রান্ত অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আয়োজিত এক জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বন্ধ থাকা পাটকলগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা এবং কীভাবে দ্রুততম সময়ে এসব মিলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এরই মধ্যে বেশকিছু পাটকল বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেখানে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ছয়টি পাটকল হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘লিজ দেওয়া প্রতিটি মিলেই এক হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রাথমিক প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, মিলভেদে প্রায় ২০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হচ্ছ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন সব মিলকে পুনরায় সচল করা। কিছু মিল পাটজাত পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত থাকবে, আবার কিছু মিলের অবকাঠামো ব্যবহার করে ভিন্ন শিল্প খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। ফলে একদিকে যেমন হাজার হাজার মানুষের বেকারত্ব দূর হবে, অন্যদিকে দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
সভায় উপস্থিত বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন টেক্সটাইল ও পাটকল পরিদর্শন করছেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সরকার বন্ধ থাকা পাটকলগুলোকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুজ্জীবিত করে সেগুলোকে পুনরায় শিল্পগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’