ঢাকা: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেছেন, বিএমইউতে যাতে রোগীদের প্রয়োজনীয় সব টেস্ট হয়, এমন কি যেসকল টেস্ট দেশের কোথাও হয় না তা যেনো এখানে হয় এবং বিএমইউর ল্যাবরেটরি সার্ভিস সেন্টার একটি দেশের নির্ভরযোগ্য অত্যাধুনিক রেফারেল ল্যাবরেটরি সার্ভিস সেন্টার হিসেবে গড়ে উঠে তা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।
বৃস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিশ্ব ল্যাবরেটরি দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে বিএমইউতে র্যালি, ডকুমেন্টারি, পোস্টার ও স্টল প্রদর্শনী শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ডা. মিলন হলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো, ‘বায়োমেডিক্যাল ল্যাবরেটরি সাইন্টিস্টস প্রোমোটিং সাসটেইনবিলিটি ইন ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোস্টিকস’।
ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, একটা হাসপাতাল কতটা স্ট্যান্ডার্ড তা নির্ভর করে ওই হাসপাতালে ল্যাবরেটরি সার্ভিস কতটা স্ট্যান্ডার্ড তার ওপর। রোগীর জটিল জটিল রোগ ও সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সঠিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া ক্লিনিশিয়ানদেরও পরামর্শ দিয়ে বিরাট অবদান রখছেন ল্যাবরেটরি সার্ভিসের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক, ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিএমইউতে বিদ্যমান ল্যাবরেটরি সার্ভিসকে আরও সুন্দরভাবে পরিচালনা ও আরামদায়ক করতে হবে, যাতে রোগীরা অল্প সময়ে তার পরীক্ষার স্যাম্পল দিতে পারেন এবং যত দ্রুত তার নির্ভুল রিপোর্টটা দেওয়া যায় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিএমইউর ল্যাবরেটরি সার্ভিস ও রিপোর্টের গুণগতমান অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। ল্যাবরেটরিগুলোকে আন্তর্জাতিক এ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করতে হবে। আশার কথা হলো, বিএমইউর ল্যাবরেটরি সার্ভিসের রিপোর্টের মান উন্নত ও নির্ভরযোগ্য হওয়ায় প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার রোগী তাদের প্রয়োজনীয় টেস্টগুলো করেন।
তিনি আরও বলেন, ল্যাবরেটরি সেবার সঙ্গে জড়িত বিভাগগুলোকে মহামারি, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, মৌসুমী রোগ, জীবাণুর প্রকোপের সময় করণীয় বিষয়ে জনসচেতনা সৃষ্টির জন্য গণমাধ্যমকে অবহিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথিরা বলেন, ‘বিএমইউতে যাতে সব টেস্ট হয় সেদিকে অবশ্যই দৃষ্টি দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সকল টেস্ট সেবা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য ল্যাব সাইন্স এর কোনো বিকল্প নাই। প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিগুলো স্থাপনেও কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
বিএমইউর বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, আজকের এ আয়োজন ল্যাবরেটরি সেবার গুণগতমান বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখবে এবং একই সঙ্গে চিকিৎসকরা এই আয়োজনে অংশ নিয়ে রোগীদের প্রয়োজনীয় কি কি ধরনের টেস্টগুলো করাতে চান সেটা আমাদেরকে অবহিত করতে পারেন এবং বিএমইউর ল্যাবরেটরি সার্ভিস কমিটির পক্ষ থেকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএমইউ ল্যাবরেটরি সার্ভিস কমিটির সদস্য সচিব ও ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এস এম নওরোজ বলেন, বিএমইউর ৬টি বিভাগ পর্দার অন্তরালে থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীর পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করছেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ হাজার টেস্ট ল্যাবরেটরি সার্ভিসের আওতায় করা হয়। বিএমইউর ওয়ান পয়েন্ট কালেকশন সেন্টারে প্রায় সার্বক্ষনিক রোগীর ভিড় লেগেই থাকে। প্রকৃতপক্ষে ল্যাবরেটরি সার্ভিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা, ল্যাবরেটরি সার্ভিসের সম্প্রসারণ করতে হলে প্রয়োজনীয় স্থান বা জায়গার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর ডিন ও সুপার স্পেশালইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী। সঞ্চালনা করেন বিএমইউ ল্যাবরেটরি সার্ভিস কমিটির সদস্য সচিব ও ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এস এম নওরোজ।
অনুষ্ঠানে বিএমইউর হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আমীন লুৎফুল কবীর, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ডা. নায়লা আতিক খান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবা উন নাহার, ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদ উল ইসলাম প্রমুখসহ বায়োকেমিস্টি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ, মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগ, ভাইরোলজি বিভাগ, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগ, হেমাটোলজি বিভাগ, প্যাথলজি বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যানরা, শিক্ষকরা, চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।