Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দিঘার সমুদ্রে তলিয়ে অভিনেতা রাহুলের মর্মান্তিক মৃত্যু

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
২৯ মার্চ ২০২৬ ২০:১৫ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৭:২৯

টলিপাড়ার হঠাৎই নেমে এলো এক শোকের ছায়া। রুপালি পর্দার সেই চেনা হাসি, সেই প্রাণবন্ত অভিনয় আর ‘চিরদিন তুমি যে আমার’এর সেই অদম্য প্রেমিকের চরিত্র দিয়ে আপাময় বাঙালির হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় হঠাৎ-ই চলে গেলেন। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে দিঘার সমুদ্রতটে এক আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিভে গেল এই প্রতিভাধর অভিনেতার জীবনপ্রদীপ। আজ রবিবার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন দিঘার তালসারিতে সমুদ্রে নেমে তলিয়ে যান তিনি। সহকর্মী ও টেকনিশিয়ানরা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি; চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

শুটিং সেটে উপস্থিত বর্ষীয়ান অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সবাই একসঙ্গে দিঘার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়েছিলাম। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় রাহুল জানিয়েছিলো তিনি আরও কয়েকটি শট দিয়ে আসবেন। কিন্তু সেই শটই যে তার জীবনের শেষ দৃশ্য হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

টলিউড আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে অভিনেতা দিগন্ত বাগচী জানিয়েছেন, প্যাকআপের পর রাহুল সৈকত থেকে সমুদ্রে নেমেছিলেন। সম্ভবত তিনি সাঁতার জানতেন না অথবা কোনোভাবে চোরাবালিতে আটকে পড়েছিলেন। টেকনিশিয়ানদের চিৎকারে উদ্ধারকাজ শুরু হলেও ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। সুস্থ-সবল এক অভিনেতার এভাবে আকস্মিক চলে যাওয়া যেন টলিউডের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম নেওয়া রাহুলের রক্তেই ছিল অভিনয়। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাট্যদল ‘বিজয়গড় আত্মপ্রকাশ’এর ‘রাজ দর্শন’ নাটকের মাধ্যমে মঞ্চে তার হাতেখড়ি। বাবার নাট্যদল ও ‘থিয়েট্রন’এর হয়ে প্রায় ৪৫০টি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করে নিজেকে ঋদ্ধ করেছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিন তুমি যে আমার’ ছবিতে প্রিয়াঙ্কা সরকারের বিপরীতে তার বড় পর্দায় অভিষেক ছিল এক বিশাল বিস্ফোরণের মতো। বক্স অফিসে সেই ছবির আকাশচুম্বী সাফল্য রাহুলকে রাতারাতি সুপারস্টারে পরিণত করে। এরপর ‘লাভ সার্কাস’, ‘শোন মন বলি তোমায়’ এবং ‘পতি পরমেশ্বর’এর মতো চলচ্চিত্রে তিনি নিজের অভিনয়শৈলীর ছাপ রেখেছেন। কেবল সিনেমা নয়, ‘তুমি আসবে বলে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে ছোট পর্দাতেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন ঘরের ছেলে। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে আনন্দলোক পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত এই অভিনেতা পর্দার আড়ালে চলে গেলেও তার কাজ আর স্মৃতির মাঝে তিনি ‘চিরদিন’ হয়েই বেঁচে থাকবেন ভক্তদের হৃদয়ে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর