প্রথমে বল হাতে হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদদের দাপট পরে ব্যাট হাতে দারুণ ব্যাটিং করেছেন তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হকরা। দুই মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনের পুরোটা জুড়েই থাকল বাংলাদেশের দাপট।
১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে টেস্টের প্রথম দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। দিন শেষে তানজিদ হাসান তামিম অপরাজিত ৩২ রানে, মুমিনুল হক অপরাজিত ৩৫ রানে। আউট হওয়া সাদমান ইসলাম অনিক করেন ২০ রান।
এর আগে বাংলাদেশের পেস দাপটে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় ১৯৮ রানেই। হাসান মাহমুদ একাই নেন ৬ উইকেট। অর্থাৎ প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ ১০২ রান পিছিয়ে। হাতে আছে এখনো ৯টি উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এমন একটি দিন—যা ম্যাচ শুরুর আগে কল্পনা করাও কঠিন ছিল।
দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাট করতে নামার পর প্রথম ১১ ওভার পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাগতিকদের হাতে। ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড সতর্কভাবে ইনিংস শুরু করেছিলেন। এরপরই দৃশ্যপট বদলে দেন বাংলাদেশের পেসাররা।
হাসান মাহমুদের জোড়া আঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি ভাঙার পর ইবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদ নিয়মিত চাপ তৈরি করেন। প্রথম সেশনেই ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে মাত্র ২ রানে থাকা স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ তানজিদ হাসান তামিম ফেলে না দিলে স্বাগতিকদের অবস্থা আরও কঠিন হতে পারত।
দ্বিতীয় সেশনে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ১০৯ রান যোগ করলেও হারায় আরও চার উইকেট। স্টিভেন স্মিথ একপ্রান্ত আগলে রাখার চেষ্টা করেন। তবে বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় জুটি গড়তে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের সামনে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের ইনিংস। ডানহাতি এই পেসার কখনো বল ভেতরে ঢুকিয়েছেন, কখনো বাইরে বের করেছেন। সঠিক লাইন-লেংথে ব্যাটারদের ক্রমাগত পরীক্ষায় রেখেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কিছু ভুল শটও বাংলাদেশকে উইকেন এনে দেয়।
হাসান ৫৫ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট—গড়েন ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের কীর্তি। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলারও হন তিনি। বিদেশের মাটিতে হাসানের কার্যকারিতার এটিও বড় প্রমাণ। এর আগে টেস্টে তার দুটি পাঁচ উইকেট ছিল।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নিয়ে ফক্স স্পোর্টসে ধারাভাষ্যের সময় সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে প্রথম দিনেই কোনো প্রতিপক্ষকে এমন দাপট দেখাতে তিনি আগে দেখেননি।
অস্ট্রেলিয়াকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস অবশ্য শুরু হয় কিছুটা অস্বস্তিতে। শুরুতেই জীবন পান তানজিদ হাসান তামিম। তার ক্যাচ নিতে পারেননি নাথান লায়ান। এরপর অবশ্য সতর্ক হয়ে যান তানজিদ।
বাংলাদেশের একমাত্র উইকেটটি আসে নবম ওভারে। মিচেল স্টার্কের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে আউটসাইড এজ দেন সাদমান ইসলাম। ক্যাচটি ধরে অস্ট্রেলিয়া প্রথম সাফল্য পেলেও এরপর আর কোনো সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
মুমিনুল হক ও তানজিদ মিলে দিনের বাকি সময়টা নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন। দুজনের ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণ। ফলে দিনের শেষ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট হারাতে হয়নি বাংলাদেশকে।
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সামনে এখন বড় লিড নেওয়ার সুযোগ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দিনেই পেসারদের এমন দাপটের পর ব্যাটাররাও যদি দ্বিতীয় দিনে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারেন, তাহলে ডারউইন টেস্টে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ।